Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯:৫৩, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

এক দশকের ইতি

সিরিয়া থেকে শেষ সামরিক ঘাঁটিও গুটালো যুক্তরাষ্ট্র

সিরিয়া থেকে শেষ সামরিক ঘাঁটিও গুটালো যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে সিরিয়া থেকে নিজেদের সর্বশেষ সামরিক উপস্থিতিও প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দেশটির হাসাকাহ অঞ্চলের কাসরাক সামরিক ঘাঁটি ছেড়ে যায় মার্কিন সেনারা। এর মধ্য দিয়ে প্রায় ১০ বছর ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটলো।

মিডল ইস্ট আই-এর বরাতে জানা গেছে, মার্কিন সেনারা ঘাঁটি ছাড়ার পরপরই সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর ৬০তম ডিভিশন সেখানে প্রবেশ করে। কাসরাক ঘাঁটিটি শুধু কৌশলগত দিক থেকেই নয়, একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটি হিসেবেও পরিচিত ছিলো। ২০১৫ সাল থেকে আইএসবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলে অবস্থান করছিলো।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক চার্লস লিস্টার জানিয়েছেন, ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর সম্ভাব্য হামলা এড়াতে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম জর্ডান সীমান্ত দিয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। বর্তমানে এ ঘাঁটি সিরীয় ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) এবং সরকারি বাহিনীর যৌথ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা বলেছে, এটি এসডিএফ-কে জাতীয় কাঠামোর সঙ্গে একীভূত করার প্রক্রিয়ারই অংশ। এখন থেকে দেশের ভেতরে সন্ত্রাসবাদ দমনের পূর্ণ দায়িত্ব সিরিয়া রাষ্ট্র নিজেই পালন করবে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও বদলেছে দ্রুত। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসেন সিরিয়ার নতুন নেতা আহমেদ আল-শারা, যিনি বাশার আল-আসাদ-কে পরাজিত করেন। নতুন এ সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে ওয়াশিংটন। চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এসডিএফ ও দামেস্ক সরকারের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়, যার ফলে কুর্দি যোদ্ধারা সরকারি কাঠামোর অধীনে কাজ করতে সম্মত হয়। এ সমঝোতাই মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পথ সহজ করে দেয়।

সিরিয়ায় এসডিএফকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো মিত্র তুরস্ক-এর মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন ছিলো। আঙ্কারা এসডিএফকে পিকেকে-সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে দেখে আসছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তুরস্ক ও পিকেকে-র মধ্যে শান্তি আলোচনা এবং এসডিএফ-সরকার সমঝোতার ফলে পরিস্থিতি অনেকটাই শান্ত হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এ প্রত্যাহারকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর ‘যুদ্ধ কমানো’ নীতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে আল-তানফ ও আল-শাদাদি ঘাঁটি থেকেও সেনা সরিয়ে নিয়েছিলো যুক্তরাষ্ট্র।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা, ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি—সব মিলিয়ে এ প্রত্যাহার নতুন এক কৌশলগত বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

পূজার ছুটিতেও চালু থাকবে পোশাক কারখানা
ককরোচ পার্টির পক্ষে রায় দিলো দিল্লি হাইকোর্ট
হরমুজে জাহাজডুবি, সাগরে ভাসছে আইফোন ও দামি সুগন্ধি
সাজেক পর্যটকদের জন্য উম্মুক্ত, অবরোধ স্থগিত
হাইতিতে জাতিসংঘ মিশনে সেনাবাহিনীর ৫০ সদস্য
ক্ষমা চেয়েও রেহাই নেই, ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন
ফ্যামিলি কার্ড পাবেন না ৮ শ্রেণির পরিবার
ডেঙ্গুতে এক দিনে ১০ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৯৪৩
স্কুলে মারামারি: স্বামী-স্ত্রী দুই শিক্ষককে বদলির সুপারিশ
ইয়েমেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৪
নেত্রকোনায় সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা
‘যৌনাঙ্গে বুট দিয়ে মেরেছে’- দিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ
বিক্ষোভে অংশ নেয়ায় ইমরান খানকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ