Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮:০৮, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

কূটনৈতিক বার্তা কী?

১১ দেশ নিয়ে ভারতের সামরিক মহড়া, বাদ পড়লো বন্ধুরাষ্ট্র(?) বাংলাদেশ

১১ দেশ নিয়ে ভারতের সামরিক মহড়া, বাদ পড়লো বন্ধুরাষ্ট্র(?) বাংলাদেশ
ছবি: সংগৃহীত

প্রথমবারের মতো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১১টি দেশকে নিয়ে বহুপাক্ষিক সামরিক মহড়া আয়োজন করতে যাচ্ছে ভারত। ‘প্রগতী’ নামের এ মহড়া আগামী ১৮ মে শুরু হয়ে চলবে ৩১ মে পর্যন্ত। ভারতের সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে মেঘালয়ের উমরোহিতে অবস্থিত আন্তর্জাতিক সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে এ আয়োজন।

তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে একটি বিষয়—তালিকায় নেই বাংলাদেশ। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের অন্যতম ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী এবং দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা সহযোগী দেশ হওয়া সত্ত্বেও ঢাকাকে আমন্ত্রণ না দেয়াকে কেবল ‘ভুলে যাওয়া’ হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকরা। বরং এর মধ্যে আঞ্চলিক কৌশলগত বার্তা খুঁজছেন অনেকে।

অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে লাওস, মিয়ানমার, সিসিলি, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন, নেপাল, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও ভুটান। ভারতীয় সেনাবাহিনী জানিয়েছে, মহড়াটির মূল লক্ষ্য হবে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান, বিদ্রোহ দমন কৌশল এবং যৌথ সামরিক সমন্বয় বাড়ানো।

বিশ্লেষকদের মতে, এ মহড়া কেবল সামরিক অনুশীলন নয়; এটি ভারতের প্রতিরক্ষা কূটনীতির একটি নতুন অধ্যায়। বিশেষ করে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় দিল্লি যেভাবে বহুপাক্ষিক নিরাপত্তা জোট ও সামরিক সহযোগিতা বাড়াচ্ছে, ‘প্রগতী’ তারই অংশ।

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—বাংলাদেশ কেনো নেই?

কারণ, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভেতরে দৃশ্যত বন্ধুত্বপূর্ণ আবহ থাকলেও আস্থার সংকট পুরোপুরি দূর হয়নি। সীমান্ত হত্যা, তিস্তা চুক্তির অগ্রগতি না হওয়া, অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভারতীয় অবস্থান নিয়ে বিতর্ক এবং আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে ঢাকার ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি—সব মিলিয়ে দিল্লির কৌশলগত হিসাব বদলাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, বাংলাদেশ সাম্প্রতিক সময়ে চীন, তুরস্ক এবং পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা যোগাযোগ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ ও বহুমুখী নিরাপত্তা সহযোগিতায় ঢাকার নতুন আগ্রহ দিল্লির কৌশলগত মহলে অস্বস্তির কারণ হতে পারে।

ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে বাদ দেয়ার কারণ ব্যাখ্যা করা হয়নি। তবে কূটনৈতিক মহলের অনেকে মনে করছেন, এটি এক ধরনের ‘নির্বাচিত আঞ্চলিক বিন্যাস’—যেখানে দিল্লি এমন দেশগুলোকে এক প্ল্যাটফর্মে আনছে, যাদের সঙ্গে ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলতে চায়।

মহড়ার সঙ্গে দুই দিনের প্রতিরক্ষা শিল্প প্রদর্শনীর আয়োজনও রাখা হয়েছে। সেখানে ভারত নিজস্ব সামরিক প্রযুক্তি ও অস্ত্র প্রদর্শন করবে। এটিকে ভারতীয় প্রতিরক্ষা রফতানি কূটনীতির অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, ‘প্রগতী’ মহড়া শুধু সামরিক অনুশীলন নয়; এটি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নতুন ভূরাজনৈতিক সমীকরণে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করার এক প্রচেষ্টা। আর সে সমীকরণে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে—ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক কি সত্যিই আগের জায়গায় আছে?

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

নোয়াখালীতে শিক্ষক হেনস্তার প্রতিবাদে মানববন্ধন
১১ দেশ নিয়ে ভারতের সামরিক মহড়া, বাদ পড়লো বন্ধুরাষ্ট্র(?) বাংলাদেশ
পদত্যাগ না করেই নির্বাচনে লড়বো: তামিম ইকবাল
বেনাপোল-খুলনা-মোংলা কমিউটার ট্রেনের ইজারা চুক্তি বাতিল
রাষ্ট্রপতিকে গ্রেফতারের দাবি, ৭২-এর সংবিধানকে ‘মুজিববাদী’ আখ্যা
গণভোটের রায় বাস্তবায়নে বিভাগীয় সমাবেশে ১১ দলের
‘জুলাই সনদকে প্রতারণার দলিলে পরিণত করেছে বিএনপি’
শিক্ষকদের ওপর হামলার জেরে ছাত্রদলের ৩ নেতা বহিষ্কার
হরমুজ সংকটে বিশ্ব তেলবাজারে তাণ্ডব
দুই হত্যা মামলায় জামিন পেলেন আইভী
খাবারের টেবিল থেকে কলেজ শিক্ষককে তুলে হেনস্তা ছাত্রদলের
জনপ্রিয় ফুটবলার থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী, একজন টিটনের গল্প
১০৩৫ কর্মী নেবে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড
ইনুকে ‘টেনশন না করতে’ বলা দুই কনস্টেবলকে প্রত্যাহার
‘দুই মাসেই আওয়ামী কায়দায় দেশ শাসনের গন্ধ’
ট্রেনের নিচে পড়ে বেঁচে যাওয়া বাবা-ছেলের পরিচয় মিলেছে
দু’শ আসন পেয়ে মসনদের পথে মমতা?
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা চুক্তি সংসদে তোলার দাবি রুমিন ফারহানার
জঙ্গি সন্দেহে রাজধানীতে চারজন গ্রেফতার