বাড়ছে সামরিক উত্তেজনা
ভারত সীমান্তে ২৫০ চীনা যুদ্ধযান মোতায়েন পাকিস্তানের
ভারতের সঙ্গে সীমান্তবর্তী পূর্বাঞ্চলীয় সেক্টরে ২৫০টি চীনা তৈরি অত্যাধুনিক এসএইচ-১৫ (SH-15) ট্রাক-মাউন্টেড সেলফ-প্রপেলড হাউইটজার মোতায়েন করেছে পাকিস্তান। সামরিক সক্ষমতা জোরদারের অংশ হিসেবে নেয়া এ পদক্ষেপকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় আর্টিলারি মোতায়েন হিসেবে দেখছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা।
গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর পর নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে ইসলামাবাদ এ পদক্ষেপ নিয়েছে। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো এবং দীর্ঘপাল্লার গোলাবর্ষণের সক্ষমতা বাড়াতেই এ হাউইটজারগুলো মোতায়েন করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসএইচ-১৫ হাউইটজারটি চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠান নরিনকো (NORINCO) তৈরি করেছে। ১৫৫ মিলিমিটার ক্যালিবারের এ স্বচালিত কামানটি আধুনিক প্রযুক্তি, উচ্চ গতিশীলতা এবং দ্রুত মোতায়েন সক্ষমতার জন্য পরিচিত।
প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে ৬×৬ চাকার বিশেষ সামরিক চ্যাসিসের ওপর নির্মিত প্ল্যাটফর্ম এবং প্রায় ৪০০ হর্সপাওয়ারের শক্তিশালী ডিজেল ইঞ্জিন। এর ফলে দুর্গম ভূখণ্ডেও দ্রুত চলাচল এবং স্বল্প সময়ে অবস্থান পরিবর্তন করা সম্ভব হয়।
এই হাউইটজার সাধারণ ন্যাটো-সামঞ্জস্যপূর্ণ গোলাবারুদ ব্যবহার করে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। এছাড়া রকেট-অ্যাসিস্টেড প্রজেক্টাইল ব্যবহার করলে এর সর্বোচ্চ কার্যকর পাল্লা প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
অস্ত্রটিতে উন্নত স্বয়ংক্রিয় ফায়ার-কন্ট্রোল সিস্টেম, ডিজিটাল টার্গেটিং প্রযুক্তি এবং হাইড্রোলিক অপারেশন ব্যবস্থা সংযোজন করা হয়েছে। এসব প্রযুক্তির কারণে এটি দ্রুত অবস্থান নিয়ে প্রতি মিনিটে সর্বোচ্চ ছয় রাউন্ড পর্যন্ত গোলাবর্ষণ করতে সক্ষম। একই সঙ্গে ‘শুট অ্যান্ড স্কুট’ কৌশল প্রয়োগ করে হামলার পর দ্রুত স্থান পরিবর্তন করাও সম্ভব, যা শত্রুপক্ষের পাল্টা হামলার ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এ মোতায়েন শুধু পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ইঙ্গিতই নয়, বরং বেইজিং ও ইসলামাবাদের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত প্রতিরক্ষা সহযোগিতারও প্রতিফলন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন পাকিস্তানকে বিভিন্ন ধরনের আধুনিক যুদ্ধবিমান, ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং ভারী অস্ত্র সরবরাহ করেছে।
সম্প্রতি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির চীন-পাকিস্তান সম্পর্ককে ‘অনন্য ও সময়পরীক্ষিত কৌশলগত অংশীদারত্ব’ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে সামরিক আধুনিকায়নের ধারাবাহিকতায় চলতি অর্থবছরে পাকিস্তান তাদের প্রতিরক্ষা বাজেট ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি করে প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন রুপিতে উন্নীত করেছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, সীমান্তে এ ধরনের ভারী আর্টিলারি মোতায়েন দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে এবং ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক ভারসাম্য ও প্রতিরক্ষা কৌশলে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
সবার দেশ/কেএম




























