ইরানি হামলায় মার্কিন ঘাঁটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির নতুন চিত্র সামনে এসেছে। মার্কিন সামরিক সদস্যদের দেওয়া বেশ কিছু ছবি সংগ্রহ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস। এসব ছবিতে ধ্বংসপ্রাপ্ত বিমান, চূর্ণবিচূর্ণ ট্রেইলার এবং গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত ভবন দেখা গেছে।
তারিখবিহীন ছবিগুলো সৌদি আরব ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি থেকে তোলা বলে জানানো হয়েছে। তবে ছবিগুলোর সত্যতা বিবিসি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটির একটি ছবিতে একটি বোয়িং ই-থ্রি সেন্ট্রি বিমানকে দুই টুকরো অবস্থায় দেখা গেছে। বিমানটির পেছনের অংশ ধাতব ধ্বংসাবশেষের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ ধরনের বিমান দূরপাল্লায় সম্ভাব্য লক্ষ্য শনাক্ত ও অনুসরণ এবং হুমকি সম্পর্কে আগাম সতর্কতা দেয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়।
কুয়েতের ক্যাম্প বুহরিং থেকে পাওয়া দুটি ছবিতে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া ট্রেইলার ও একটি বড় তাঁবুসদৃশ স্থাপনা দেখা গেছে। আরেক ছবিতে ক্যাম্প আরিফজানে ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি চারতলা ভবন দেখা যায়। ওই স্থাপনায় এর আগে স্যাটেলাইট যোগাযোগের সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবরও পাওয়া গিয়েছিলো।
ছবিগুলো প্রকাশের আগে পেন্টাগনের তদারকি সংস্থার একটি প্রতিবেদনে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের হামলায় মার্কিন সামরিক স্থাপনার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য উঠে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইরাক, ওমান ও জর্ডানে থাকা মার্কিন ঘাঁটির শত শত ভবন ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব হামলায় সরঞ্জামগত ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৭০ কোটি ডলার। যুদ্ধের শুরু থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মোট ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৩ হাজার ৩৪০ কোটি ডলার বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়েছে, সংঘাতের কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক ডজন বিমান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এর মধ্যে সৌদি আরবে মাটিতে থাকা অবস্থায় ইরানি গোলাবারুদের আঘাতে পাঁচটি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে ইরানের সঙ্গে সংঘাতের অবসান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে। প্রতিনিধি পরিষদ তৃতীয়বারের মতো যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে ভোট দিয়েছে। অনুমোদিত প্রস্তাবটি কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে বাধ্য করার কথা বলছে। কয়েকজন রিপাবলিকান সদস্যও প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দিয়েছেন।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর সংঘাত শুরু হয়। এরপর ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ এবং ইসরায়েলে পাল্টা হামলা চালিয়ে আসছে। সংঘাতের প্রভাব ও মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিয়ে প্রকাশিত নতুন ছবিগুলো সে পরিস্থিতিরই আরেকটি চিত্র তুলে ধরেছে।
সবার দেশ/কেএম




























