Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০০:১১, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১০:৫৫, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সুদানে স্বর্ণের খনি ধসে নিহত ৮২

সুদানে স্বর্ণের খনি ধসে নিহত ৮২
ছবি: সংগৃহীত

সুদানের পশ্চিম কর্দোফান রাজ্যে একটি স্বর্ণের খনি ধসে অন্তত ৮২ জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার আল-নুহুদ শহরের কাছে আল-জারা স্বর্ণের খনিতে পরপর কয়েকটি সংযুক্ত খনিশাফট ধসে পড়লে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে বহু শ্রমিক নিহত হওয়ার পাশাপাশি আরও অনেকে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন।

বুধবার কোরদোফান অবজারভেটরি নামের একটি পর্যবেক্ষণকারী গোষ্ঠী হতাহতের এ তথ্য জানিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও শ্রমিক আটকা থাকতে পারেন। তবে দুর্ঘটনার পরও বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। স্থানীয় বাসিন্দারা সীমিত সরঞ্জাম ব্যবহার করে বালুময় ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের উদ্ধারের চেষ্টা করছেন।

দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া খনিশ্রমিক খাইর আল-সাইয়েদ জাবারা এএফপিকে জানান, তিনি ও তার সহকর্মীরা রাতভর নিজেদের হাতে থাকা সরঞ্জাম দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরানোর চেষ্টা করেছেন। তবে ভারী যন্ত্রপাতি ছাড়া উদ্ধারকাজ চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। খনির ভেতরে ঠিক কতজন আটকা পড়ে আছেন, সেটিও তারা জানেন না।

আরেক শ্রমিক আমিন সুলেইমান বলেন, খনির শাফটগুলো একে অপরের খুব কাছাকাছি ছিলো। একটি শাফট ধসে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাশের শাফটগুলোও ধসে যায়। এতে খনির বড় একটি অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় এবং বহু শ্রমিক আটকা পড়েন।

দুর্ঘটনার পর খনিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও উদ্ধার সরঞ্জামের অভাবই এত বেশি প্রাণহানির অন্যতম কারণ হতে পারে।

খার্তুমভিত্তিক চিকিৎসা সংগঠন সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান চলছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও শ্রমিক আটকা থাকার আশঙ্কায় মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য দ্রুত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

পশ্চিম কর্দোফান বর্তমানে আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে দেশটির সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে ভয়াবহ সংঘাত চলছে। দীর্ঘস্থায়ী এ যুদ্ধের কারণে বিভিন্ন অঞ্চলে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়েছে। এর মধ্যেই পশ্চিম কর্দোফানসহ বিভিন্ন এলাকায় অনানুষ্ঠানিকভাবে স্বর্ণ উত্তোলন চলছে।

সুদান আফ্রিকার অন্যতম প্রধান স্বর্ণ উৎপাদনকারী দেশ। দেশটির বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ অনানুষ্ঠানিক ও ঝুঁকিপূর্ণ খনি থেকে উত্তোলন করা হয়। অনেক খনি পরিত্যক্ত, অনিবন্ধিত কিংবা প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে।

চলমান যুদ্ধের মধ্যে স্বর্ণ সুদানের অর্থনীতির পাশাপাশি বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে। অবৈধভাবে স্বর্ণ উত্তোলন ও চোরাচালানের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগও রয়েছে। ফলে যুদ্ধের মধ্যে নিরাপত্তাহীন পরিবেশে স্বর্ণ উত্তোলনের প্রবণতা বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।

আল-জারা খনির এ দুর্ঘটনা সেই ঝুঁকিকেই আবার সামনে এনেছে। বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল ও ভারী যন্ত্রপাতির অনুপস্থিতিতে স্থানীয়রাই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারের চেষ্টা করছেন। এ কারণে উদ্ধারকাজ যত এগোবে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

জিপিএ-৫ পেয়েও কলেজ পাননি ২২০৫ শিক্ষার্থী
বিলুপ্ত র‍্যাব, এসআরবির যাত্রা শুরু
দিল্লিতে শি জিনপিংয়ের অসুস্থতার দাবি ঘিরে রহস্য
যে স্ত্রীকে মেরে জেল, ১২ বছর পর সে নারী জীবিত!
নারী রেফারিংয়ে নজর কাড়ছেন জুলিয়ানা
সুদানে স্বর্ণের খনি ধসে নিহত ৭০
সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার জ্বালানি কিনছে সরকার
ইরানি হামলায় মার্কিন ঘাঁটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
ব্রিকসে না গিয়ে দেশকে সম্মানিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী: রিজভী
তিন মেট্রোরেলে আড়াই লাখ কোটি টাকা অনুমোদন
উত্তাল ভারতের মণিপুর, দুই দিনে ৬ মৃত্যু
১১ হাজার কোটি ফিরলেই গ্যাস-বিদ্যুৎ হাসবে!
‘নামে বিজ্ঞান আছে’ ভেবেই রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মিথিলা!
ঢাবিতে ককটেল বিস্ফোরণ, ছাত্রদলের বিক্ষোভ
ঢাবিতে পরপর ৩ ককটেল বিস্ফোরণ
গ্যাস সরবরাহ বাড়লো জাতীয় গ্রিডে