Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:০৪, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬

প্রত্যাখ্যান বাংলাদেশের

আইসিজেতে রোহিঙ্গাদের ‌‘বাঙালি’ দাবি মিয়ানমারের

আইসিজেতে রোহিঙ্গাদের ‌‘বাঙালি’ দাবি মিয়ানমারের
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে মিয়ানমার, তবে বাংলাদেশ তা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, মিয়ানমারের এ দাবি রোহিঙ্গাদের ওপর ২০১৬-১৭ সালে সংঘটিত নৃশংসতার মনোযোগ সরানোর পাশাপাশি জাতিগত নির্মূল অভিযানকে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আইসিজেতে মিয়ানমারের সাম্প্রতিক আবেদনের প্রতি বাংলাদেশ গভীর আপত্তি জানিয়েছে। এতে রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা মূলত অবৈধ অভিবাসনের আখ্যান তৈরি এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা হুমকিকে আরও শক্তিশালী করার উদ্দেশ্য বহন করে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোহিঙ্গারা একটি স্বতন্ত্র জাতিগত গোষ্ঠী, যা ১৭৮৫ সালে বর্মণ রাজ্যের অংশ হওয়ার আগেও আরাকানে শতাব্দী ধরে বিকশিত হয়েছিলো। তাদের প্রাচীন আরাকান বা মায়ো-হাউং অঞ্চলে উপস্থিতি থেকেই রোহিঙ্গাদের চট্টগ্রামের রোশাং বা রোহাং ও বৃহত্তর বাংলায় প্রসারিত নামকরণ হয়েছে। শুরুতে এটি একটি বহির্নামের ঘটনা হলেও পরবর্তী সময়ে সম্প্রদায়টি আত্মপরিচয়ের জন্য ‘রোহিঙ্গা’ নাম গ্রহণ করে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, রোহিঙ্গাদের বার্মার আরাকান ও বর্তমান রাখাইনের সঙ্গে গভীর ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক শিকড় রয়েছে। এ অঞ্চলে তাদের উপস্থিতি আধুনিক সীমান্তেরও পূর্ববর্তী। বর্মার স্বাধীনতার কয়েক দশক আগে আরাকানে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের বিদেশি বা অভিবাসী হিসেবে দেখানোর প্রচেষ্টা ঐতিহাসিক তথ্যের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন প্রবর্তনের আগে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের সমাজ ও সরকারের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলো। পরে সরকার কেবল জাতিগত ও ধর্মীয় ভিত্তিতে তাদের রাষ্ট্র ও সমাজ থেকে বাদ দেয়। পরিকল্পিত প্রান্তিকীকরণ, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে ভিন্নীকরণ সত্ত্বেও রোহিঙ্গারা ভোটাধিকার ভোগ করতো, যতক্ষণ না ২০১৫ সালের সাধারণ নির্বাচনে তারা সম্পূর্ণরূপে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ও মৌলিক মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে মিয়ানমার রাষ্ট্র তাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করছে। যদিও ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক প্রত্যাবাসন চুক্তিতে এ সম্প্রদায়কে বৈধ বাসিন্দা হিসেবে গণ্য করা হয়, পরবর্তীতে মিয়ানমারের চুক্তি নিশ্চিত করেছে যে তারা সমান নাগরিক হিসেবে সমাজে একীভূত হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, রোহিঙ্গাদের স্বতন্ত্র জাতিগত পরিচয়, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সামাজিক রীতিনীতি ও ভাষা রয়েছে, যা চট্টগ্রামের উপভাষার সঙ্গে মিল থাকলেও বাংলা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। মিয়ানমারের ‘বাঙালি’ হিসেবে নামকরণ প্রচেষ্টা রোহিঙ্গাদের আত্মপরিচয় অস্বীকার করার এবং তাদের ওপর অতীত নিপীড়নের ন্যায্যতা প্রদর্শনের একটি পদ্ধতিগত উদ্যোগ।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া ভারতের নিজস্ব বিষয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
আইন ভেঙে এসআইবিএলের প্রশাসক বদলি
ইউনূস আমলেও টিকা ছিলো, আন্দোলনরত স্বাস্থ্যকর্মীরা কাজ করেনি
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ছাত্রদল নেতারা আসনে, দাঁড়িয়ে শিক্ষকরা
সিগারেটের দাম বাড়িয়ে ১৭ থেকে ৩৫ টাকার প্রস্তাব
দুর্নীতি ও লুটপাট করলে ফ্যাসিস্ট সরকারের পরিণতি হবে: খায়রুল কবির
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ২ বাংলাদেশি নিহত
স্কুলে যাওয়ার কথা বলে নিখোঁজ ৪ ছাত্রী, উৎকণ্ঠায় পরিবার
যুদ্ধবিরতি লাইফ সাপোর্টে, বাঁচার সম্ভাবনা ১ শতাংশ: ট্রাম্প
নবীনগরে র‍্যাব সদস্যদের ওপর হামলা, মারধর
বীরগঞ্জে তিন মাদক কারবারি গ্রেফতার, থানায় দুই মামলা
লুটপাটকারীরা আর ব্যাংক খাতে ফিরতে পারবে না: গভর্নর
২ বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যার কারণ জানালো বিএসএফ
মেলান্দহে চেক জালিয়াতির দায়ে জামায়াত নেতা জেলহাজতে
কাপুরুষের সমাজে নাসির আমার বীরপুরুষ: তামিমা
মঙ্গলবার শুরু হচ্ছে ৭৯তম কান চলচ্চিত্র উৎসব
‘১৮ বছর বঞ্চিত থেকেও জাতীয়তাবাদী আদর্শ বদলাইনি’
নাভারন-সাতক্ষীরা মহাসড়কে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় নিহত ২