Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২:০২, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬

তিন সপ্তাহের শুনানি

আইসিজেতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার শুরু

আইসিজেতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার শুরু
ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমারে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে চালানো গণহত্যার বিচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালত (আইসিজে)। জাতিসংঘের সর্বোচ্চ এ আদালতে শুরু হওয়া ঐতিহাসিক শুনানিতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন ও পরিকল্পিত গণহত্যার অভিযোগ তুলে ধরেছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া।

সোমবার (গতকাল) নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আইসিজেতে মামলার পূর্ণাঙ্গ শুনানি শুরু হয়। শুনানির প্রথম দিনে গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাউদা জালো আদালতকে জানান, মিয়ানমার রাষ্ট্রীয়ভাবে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নিশ্চিহ্ন করার উদ্দেশ্যেই গণহত্যা চালিয়েছে।

জালো বলেন, গাম্বিয়া একটি দুর্বল ও নিরস্ত্র জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংঘটিত সবচেয়ে নৃশংস ও জঘন্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করেছে। কয়েক দশক ধরে রোহিঙ্গারা ভয়াবহ নির্যাতন, বৈষম্য ও অমানবিক প্রচারণার শিকার হয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় সামরিক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রাম ধ্বংস, হত্যা, ধর্ষণ এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা হয়েছে, যার লক্ষ্য ছিলো মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের অস্তিত্ব মুছে ফেলা।

তিনি আরও বলেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী পরিকল্পিত ও সংগঠিতভাবে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ধ্বংস করার লক্ষ্যেই অভিযান পরিচালনা করেছে। তাদের জাতিগত পরিচয় ও ধর্মের কারণেই এ জনগোষ্ঠীকে টার্গেট করা হয়েছে।

মামলার পটভূমি তুলে ধরে জালো জানান, নিজ দেশে সামরিক শাসনের অভিজ্ঞতা এবং নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকেই গাম্বিয়া এ মামলা দায়ের করেছে। ২০১৯ সালে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এ দেশটি রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতে মামলা করে।

কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইসিজেতে এ শুনানি টানা তিন সপ্তাহ চলবে। এ সময় গাম্বিয়া তাদের অভিযোগ বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করবে এবং মিয়ানমারকে অভিযোগের জবাব দেয়ার সুযোগ দেয়া হবে, যা মাসের শেষ পর্যন্ত চলতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আদালত রোহিঙ্গা ভুক্তভোগীসহ বিভিন্ন সাক্ষীর বক্তব্য শোনার জন্য তিন দিন নির্ধারণ করেছে। তবে নিরাপত্তা ও সংবেদনশীলতার কারণে এসব শুনানি জনসাধারণ ও গণমাধ্যমের জন্য বন্ধ থাকবে।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালত ব্যক্তিগত অপরাধীর বিচার করে না। তবে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গণহত্যার মতো গুরুতর অপরাধের দায় নির্ধারণে আদালতের রায় ও পর্যবেক্ষণ জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।

রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার শুরু হওয়াকে মানবাধিকারকর্মীরা আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

পিরোজপুরে গর্ত খুঁড়তে গিয়ে মাটি ধসে ২ শ্রমিকের মৃত্যু
দর্শনা সীমান্তে ‘পুশইন’, নারী ও শিশুসহ আটক ১০
লক্ষ্মীপুরে ধর্ষণের অভিযোগ, যুবদল নেতার বিরুদ্ধে মামলা
প্রেমের টানে টাঙ্গাইলে চীনা স্কুলশিক্ষক
যুক্তরাষ্ট্রে রাসায়নিক ট্যাংক বিস্ফোরণে নিহত বেড়ে ১১
৪০০ টাকায় কেনা চামড়া বিক্রি ১৫০ টাকায়
মে মাসে মব সহিংসতায় সর্বোচ্চ ৩২ মৃত্যু: এমএসএফ
প্রাণনাশের শঙ্কায় ঈদে বাড়ি যাননি এনসিপি নেত্রী বর্ষা
জাতিসংঘের সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত হচ্ছেন ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী
জ্বালানি তেলের নতুন দাম, লিটারপ্রতি বাড়লো ৫ টাকা
জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশ একে অপরের পরিপূরক: মির্জা ফখরুল
দুঃসংবাদ পিছু ছাড়ছেনা জ্যাকলিনের!
সামনে চ্যালেঞ্জিং সময়, দায়িত্বশীল না হলে দেশের ক্ষতি হবে: প্রধানমন্ত্রী
পিএসজির শিরোপা উদযাপন ঘিরে ফ্রান্সজুড়ে তাণ্ডব
জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের ঠাঁই হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
দিল্লিতে পাঁচতলা ভবন ধস, ধ্বংসস্তূপের নিচে শতাধিক শিক্ষার্থী