কবিত
বৈশাখী প্রণাম
বৈশাখী প্রণাম
পঁচিশে বৈশাখ, আজ আকাশে তোমারই মুখ,
জোড়াসাঁকোর বাতাসে ভাসে গীতাঞ্জলির সুখ।
কলম ধরেছিলে তুমি, জেগেছিল মহাদেশ,
একটি মানুষের গানে গেয়েছিল সারা বিশ্বের দেশ।
শান্তিনিকেতনের পথে আজও ধুলো ওড়ে,
সে ধুলোয় মিশে আছে তোমার পায়ের ছোঁয়া।
আম-জামের ছায়ায় বসে শিখিয়েছিলে গান,
‘মুক্ত করো ভয়, আপনা-মাঝে শক্তি ধরো প্রাণ’।
তুমি বলেছিলে, ‘একলা চলো’ অন্ধকারে,
সেই মন্ত্রে দীপ জ্বালি আমরা হাজারে হাজারে।
জনগণমন-অধিনায়ক, তোমার সুরের বাঁধন,
ভারতকে বেঁধেছে এক সুরে, এক হৃদয়-সাধন।
হে কবি, তুমি নেই, তবু আছো প্রতি শ্বাসে,
বাংলা বর্ণমালা কাঁপে তোমারই আশ্বাসে।
আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও আজও বুকে,
চোখের জলে লিখি— ‘তুমি রবে নীরবে’ মুখে।
আজ যখন কাঁদে মাটি, ভাঙে মানুষের ঘর,
তোমার ‘প্রশ্ন’ এসে দাঁড়ায়, চোখে আনে জ্বর।
ফিরে এসো আরবার, ধরো নতুন সোনার তরী,
আমরা যে পথ চেয়ে আছি, হাতে নিয়ে খেয়ার কড়ি।
হে চির-বৈশাখের রবি, তোমায় শতকোটি প্রণাম,
তোমার আলোয় পথ চলি, এটুকুই মোদের দাম।




























