প্রথম আলোর মতিউরসহ তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা
দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানসহ তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি করে মানহানির মামলা দায়ের করা হয়েছে হবিগঞ্জের আদালতে।
বুধবার (৬ মে) হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্থানীয় এনজিও ‘পিপলস এসিস্ট্যান্ট ফর সোশাল এডভান্সমেন্ট’ (পাশা)-এর নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ হুমায়ুন কবির মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার অপর আসামিরা হলেন- প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রিয়াদুল করিম এবং হবিগঞ্জ প্রতিনিধি হাফিজুর রহমান নিয়ন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, বিচারক মোছা. তানজিনা তানিন মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হবিগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশকে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ৫ ফেব্রুয়ারি দৈনিক প্রথম আলোতে ‘এক ব্যক্তিনির্ভর ‘পাশা’ দিচ্ছে ১০ হাজার নির্বাচন পর্যবেক্ষক’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরদিন একই বিষয়ে আরেকটি ফলোআপ প্রতিবেদন এবং ৭ ফেব্রুয়ারি একটি উপসম্পাদকীয় প্রকাশ করা হয়।
বাদীপক্ষের অভিযোগ, প্রকাশিত প্রতিবেদন ও সম্পাদকীয়তে সংস্থাটির বিরুদ্ধে তথ্যবিহীন, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে দেশি-বিদেশি দাতা সংস্থা, শুভানুধ্যায়ী ও সংশ্লিষ্ট মহলে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এবং দীর্ঘদিনের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
এছাড়া নির্বাচন পর্যবেক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যাওয়ায় সংস্থাটি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় আরও বলা হয়, প্রতিবেদনে সংস্থাটিকে ‘নামসর্বস্ব’, ‘নিজস্ব প্রকল্পবিহীন’ এবং ‘টাকার বিনিময়ে পর্যবেক্ষক কার্ড বিক্রির অভিযোগ রয়েছে’—এভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা বাদীপক্ষের দাবি অনুযায়ী সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এমনকি সংস্থার প্রধান কার্যালয়ের ছবি সম্পাদনা করে প্রকাশ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ আনা হয়েছে।
বাদীপক্ষের দাবি, এসব প্রকাশনার কারণে সংস্থাটির প্রায় ১০০ কোটি টাকার মানহানি হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের কাছে পূর্বে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হলেও সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ায় আদালতের শরণাপন্ন হন তারা।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শহীদুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আদালত মামলাটি গ্রহণ করে তদন্তের দায়িত্ব ডিবি পুলিশকে দিয়েছেন।
সবার দেশ/কেএম




























