কবিতা
সম্মোহিত দেবতার কল্পনা প্রসূত ছাঁচ
হে সুদর্শন যুবক, তুমি কি দেখোনা?
জীবন, যৌবন আর মৃত্যু কত কাছাকাছি বাস তাদের,
তবে কোন দাম্ভিক্যের অনলে পুড়ে মরছো, মিছে অহমিকায়?
আমি এক নিটোল সৌষ্ঠব গড়নের নারী, কাদম্বিনী কামিনী,
হাসিতে যার মুক্ত ঝরে,
কন্ঠে যার কোকিলের কুহধ্বনী, নদীর কলতান ।
তুমি কি বোঝো না?
সহস্র রাত কেটে যায় একা, নকশী চাদরের সুতির নরম ওমের বিছানায় গড়াগড়ি করে,
তোমাকে ভেবে ভেবে তোমার বিরহ তৃষ্ণায়।
কতোদিন অগণিত দিন - রাত,
প্রিয় শিমুল তুলোর নরম বালিশটা জড়িয়ে ধরেছি,
তোমাকে ভেবে,
তোমার আলিঙ্গনের অস্থির ভাবনায়,
কত বৈশাখীর হিমেল পরশ গায়ে মেখেছি,
তোমারি ভাবনায়, অরুণ রাগ মিষ্টি রোদে সকাল-সন্ধ্যা অপেক্ষা করেছি,
আমার দখিনা জানালায় তোমাকে ভেবে।
তুমি কি জানো?
অমৃত পিয়াসী এই রাতগুলোতে আমি প্রাচীন কোনও গুহার নাগিনীর মতো নগ্ন,
সরীসৃপের মতো নিবিষ্ট নির্লিপ্ত চিত্তে থাকি তোমাকে জড়িয়ে,
আরাধ্য পাপ পুণ্যের বেহিসেবি খাতায়।
আমার তোমার প্রতিটি অঙ্গ ছুঁতে চায়,তোমাকে ভালোবাসার কল্পনাতে,
অনু -পরমাণুতে বিভাজিত হয়ে হয় নবসৃষ্টি ।
তুমি আমার দেহতত্ত্বের প্রতিটি তিল আবিষ্কার করেছো,
যেমন কোন বিজ্ঞানী আবিষ্কার করে সৌরজগতের নতুন গ্রহ উপগ্রহ নক্ষত্র সন্ধানের নেশায় কাটায় রাত দিন ।
নব্য আষাঢ়ের জলধারায় যেমন করে প্লাবন আনে,
মরু পাহাড়ের বুকে মরুদ্যানে।
আবিষ্কার করছো চুমুতে চুমুতে নীলগিরি রহস্য,
পায়ের নখ থেকে চুলের বেনীর ভাঁজে ভাঁজে নারী দেহের সকল অস্তিত্বের সার নির্যাস।
অগ্নি লাভায় পুড়ে তোমার প্রেমিক মন আবিষ্কার করছে,
যেন এক হীরক খন্ড পাবার উৎকর্ষ প্রফুল্ল সাধ।
হয়তো তুমি চাইলেই ছোঁয়াতে পারতে,
দু'চার প্রাণের সঞ্চার এনে দিতে ধরণীতে,
সেই জবা পাপড়ির ঝরে যাওয়া,পরাগ রেনুর ডিম্বানু গুলোতে।
চাওয়া পাওয়ার নদী সাগরের মোহনায়,
হয়তো তুমিই স্রষ্টা হতে, নয়তো জনক, নয়তো দেবতার সাঁচ কাঠামো।
হে প্রিয় ঘুঘু চোখা দেবতা মোর!
মেঘআড়ালে বসে তুমি নিশচুপ থেকো না,
শুধু একবার বলো এই জৈবিক সময়গুলোতে,
তোমাকেই ভালোবাসি প্রিয়া! তোমাকেই প্রয়োজন।
মঙ্গলবার ২৪/৩/২৬
আরও পড়ুন <<>> প্রসব




























