Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯:৪৬, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

মুসলিম রেনেসাঁর কবি ফররুখ আহমদের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

মুসলিম রেনেসাঁর কবি ফররুখ আহমদের মৃত্যুবার্ষিকী আজ
ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব সাহিত্যবোধ, স্বতন্ত্র কাব্যভাষা ও মানবতাবাদী চেতনায় বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করা কবি ফররুখ আহমদের ৫২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১৯ অক্টোবর। ১৯৭৪ সালের এ দিনে রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেনে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলা সাহিত্যের এ বিশিষ্ট কবি।

মুসলিম রেনেসাঁর কবি হিসেবে পরিচিত ফররুখ আহমদ আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম উল্লেখযোগ্য স্রষ্টা। ইসলামী ঐতিহ্য, মুসলিম সমাজের পুনর্জাগরণের আকাঙ্ক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ ও স্বদেশচেতনা তার কবিতায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। একই সঙ্গে শব্দের অভিনব ব্যবহার, ছন্দের বৈচিত্র্য এবং কাব্যিক চিত্রকল্প নির্মাণে তিনি অর্জন করেছিলেন স্বতন্ত্র পরিচিতি।

বাংলা কবিতায় রোমান্টিক ভাবধারা থেকে আধুনিকতার দিকে উত্তরণের ধারায় ফররুখ আহমদের সৃষ্টিশীলতা বিশেষভাবে আলোচিত। তার কবিতায় ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে সমাজের স্থবিরতা ভেঙে নতুন জাগরণের প্রত্যাশা।

কবিতায় জাগরণ ও মানবতার আহ্বান

ফররুখ আহমদের কবিতার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিলো অধঃপতিত মুসলিম সমাজের পুনর্জাগরণের আকাঙ্ক্ষা। আত্মমর্যাদা, ঐতিহ্যচেতনা ও নৈতিক মূল্যবোধের পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বান তার বহু রচনায় প্রতিফলিত হয়েছে। আরবি-ফারসি শব্দের সৃজনশীল প্রয়োগ, সমৃদ্ধ উপমা এবং শক্তিশালী ছন্দ তার কাব্যভাষাকে দিয়েছে স্বতন্ত্র মাত্রা।

তবে তার সাহিত্যচর্চা কেবল ধর্মীয় ভাবধারায় সীমাবদ্ধ ছিল না। শোষণ, অন্যায় ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী মনোভাব এবং মানুষের মর্যাদার প্রশ্নও তার সাহিত্যিক অবস্থানের গুরুত্বপূর্ণ দিক। তার কবিতায় সাম্য, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধের আকাঙ্ক্ষা বিভিন্নভাবে প্রকাশ পেয়েছে।

রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের নানা পর্যায়েও তার সাহিত্যিক অবস্থান আলোচিত হয়েছে। ভাষা আন্দোলন, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং নিপীড়নের বিরুদ্ধে জনমানুষের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে তার কবিতার প্রতিবাদী চেতনার যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন পাঠক ও সমালোচকেরা।

জন্ম ও শিক্ষাজীবন

কবি ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন তৎকালীন যশোর জেলার অন্তর্গত মাগুরার মাঝআইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম সৈয়দ হাতেম আলী এবং মাতার নাম বেগম রওশন আখতার।

তিনি ১৯৩৭ সালে খুলনা জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন এবং ১৯৩৯ সালে কোলকাতার রিপন কলেজ থেকে আইএ পাস করেন। পরে কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজে দর্শন ও ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। তবে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা শেষ না করেই তিনি কর্মজীবনে প্রবেশ করেন।

১৯৪২ সালের নভেম্বরে খালাতো বোন সৈয়দা তৈয়বা খাতুন লিলির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন কবি। ব্যক্তিজীবনের পাশাপাশি সাহিত্যচর্চা ও কর্মজীবনেও তিনি সক্রিয় ছিলেন।

সাহিত্য ও কর্মজীবন

ফররুখ আহমদের সাহিত্যিক পরিচয়ের কেন্দ্রবিন্দু ছিলো কবিতা। তবে শিশুতোষ সাহিত্য, ছড়া এবং অন্যান্য সাহিত্যধারাতেও তিনি উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন। ১৯৪৫ সালে মাসিক ‘মোহাম্মাদী’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কর্মজীবনের বড় একটি সময় তিনি ঢাকা বেতারে কাজ করেছেন।

তার রচনায় ঐতিহ্য, ইতিহাস, ধর্মীয় অনুষঙ্গ ও সমকালীন সমাজবাস্তবতা নানা মাত্রায় উঠে এসেছে। বিষয়বস্তুর পাশাপাশি কাব্যনির্মাণের স্বাতন্ত্র্যও তাকে বাংলা সাহিত্যে আলাদা অবস্থান দিয়েছে।

তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘সাত সাগরের মাঝি’ (১৯৪৪), ‘সিরাজাম মুনিরা’ (১৯৫২), ‘নৌফেল ও হাতেম’ (১৯৬১) এবং ‘হাতেমতায়ী’ (১৯৬৬)। শিশু-কিশোরদের জন্য তার উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে ‘পাখির বাসা’ (১৯৬৫), ‘হরফের ছড়া’ (১৯৭০) ও ‘ছড়ার আসর’ (১৯৭০)।

বিশেষ করে ‘সাত সাগরের মাঝি’ বাংলা কাব্যসাহিত্যে তার পরিচিতি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তার কবিতার ভাষা, প্রতীক ও ছন্দের ব্যবহার নিয়ে সাহিত্যসমালোচকদের আগ্রহ আজও অব্যাহত রয়েছে।

পুরস্কার ও স্বীকৃতি

সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ফররুখ আহমদ জীবদ্দশায় ও মরণোত্তর বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬০), প্রেসিডেন্ট পুরস্কার ‘প্রাইড অব পারফরম্যান্স’ (১৯৬১), আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৬) এবং ইউনেসকো পুরস্কার (১৯৬৬)।

মৃত্যুর পর তাকে একুশে পদক (১৯৭৭) ও স্বাধীনতা পুরস্কার (১৯৮০) দেয়া হয়।

বাংলা সাহিত্যে ফররুখ আহমদের প্রাসঙ্গিকতা

ফররুখ আহমদের মৃত্যু হলেও তার সাহিত্যিক উত্তরাধিকার বাংলা কবিতার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান ধরে রেখেছে। স্বতন্ত্র কাব্যভাষা, ঐতিহ্যনির্ভর চেতনা, মুসলিম সমাজের পুনর্জাগরণের আকাঙ্ক্ষা এবং অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী মনোভাব তার সাহিত্যকে বিশেষ বৈশিষ্ট্য দিয়েছে।

তার কবিতা পাঠককে অতীতের ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করার পাশাপাশি আত্মমর্যাদা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের প্রশ্নেও ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে। তাই মৃত্যুবার্ষিকীতে কবিকে স্মরণ করা শুধু একজন সাহিত্যিককে শ্রদ্ধা জানানো নয়, বাংলা কবিতায় তার স্বতন্ত্র অবদান নতুন করে মূল্যায়নেরও উপলক্ষ।

সবার দেশ/এমকেজে

শীর্ষ সংবাদ:

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এ দেশের সন্তান: প্রধানমন্ত্রী
ইতালিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১৪১ পুলিশ আহত
রাষ্ট্রপতির বিতর্কিত বক্তব্য প্রত্যাহার ও ব্যাখ্যা দাবি জমিয়তের
শৈশবের পূজার স্মৃতি আজও অমলিন মন্দিরার
ইয়েমেনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ৫৩ সেনা
কক্সবাজারে প্রকাশ্যে অস্ত্র ঠেকিয়ে ডাকাতি, লুটের শিকার ৬০ যানবাহন
যশোর ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন যেন দুর্বোধ্য ধাঁধা!
শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা ১৫ হাজার কেজি লাল চিনি জব্দ
কবি ফররুখ আহমদের মৃত্যুবার্ষিকীতে আলোচনা ও দোয়া
লাইভে প্রার্থনার সময় ক্রুশ ভেঙে যাজকের মৃত্যু
ইশরাকের স্ত্রীর রহস্যজনক পোস্ট, উদ্ধৃতি মার্টিন লুথার কিংয়ের
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের অপেক্ষায় দেশবাসী: নাহিদ ইসলাম
বনানী থেকে ফের গ্রেফতার দিলীপ আগারওয়ালা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতা, ফাঁদে পড়লেন ইশরাক: নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী
‘গুজব’ বলার পরও পদত্যাগ করলেন ইশরাক
বাংলাদেশে সৌহার্দ্যপূর্ণ দুর্গাপূজা উদ্‌যাপিত হচ্ছে: দিনেশ ত্রিবেদী
অভিবাসীদের ঘৃণায় জ্বলছে ফ্রান্স: ট্রাম্প
সংবিধান সংশোধনে বিরোধী দল সহযোগিতা করছে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী