Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ ডিজিটাল ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৩৬, ৭ মে ২০২৬

মানবজমিনের অনুসন্ধান

তারেক রহমানকে সিলিংয়ে ঝুলিয়ে নির্যাতন—চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি

তারেক রহমানকে সিলিংয়ে ঝুলিয়ে নির্যাতন—চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি
ফাইল ছবি

তারেক রহমানকে ১/১১–পরবর্তী সময়ে গ্রেফতার ও নির্যাতনের ঘটনায় নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে দৈনিক মানবজমিন। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০০৭ সালের ৭ মার্চ সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তাকে ক্যান্টনমেন্টের বাসা থেকে গ্রেফতার করে ডিজিএফআইয়ের জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, তৎকালীন সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদ ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এটিএম আমিনের উপস্থিতিতে তারেক রহমানকে গ্রেফতারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরে কর্নেল (অব.) ইমরান তাকে মইনুল রোডের বাসা থেকে নিয়ে যান।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, জেআইসিতে নেয়ার পর তারেক রহমানকে দীর্ঘসময় চোখ বেঁধে রাখা হয় এবং হাত বাঁধা অবস্থায় ঝুলিয়ে রেখে নির্যাতন চালানো হয়। তৎকালীন সিটিআইবি কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আরও দাবি করা হয়েছে, ২০০৭ সালের ডিসেম্বর মাসে তাকে আবারও জেআইসিতে এনে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেয়া হয়। সে জবানবন্দিতে তাকে নিজের ভুলের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়েছিলো বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

মানবজমিনের অনুসন্ধান অনুযায়ী, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আব্দুর রব খান জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন যে, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এটিএম আমিনের নির্দেশে তারেক রহমানকে সিলিংয়ের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিলো। ওয়ারেন্ট অফিসার ফজলু নামের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, 

পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ঝুলন্তই থাকবে বলে নির্দেশ দেয়া হয়েছিলো।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, একপর্যায়ে সিলিং থেকে পড়ে গিয়ে তারেক রহমান কোমরে গুরুতর আঘাত পান। এরপর দীর্ঘসময় তাকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়।

সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী তার জবানবন্দিতে দাবি করেছেন, ২০০৮ সালের জানুয়ারিতে তারেক রহমানকে প্যারোলে মুক্তি দেয়া হলে তিনি তাকে খুঁড়িয়ে হাঁটতে দেখেন। পরে পারিবারিক সূত্রে জানতে পারেন, ডিজিএফআই কর্মকর্তারা তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছেন। এ নিয়ে সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদের সঙ্গে তার বাগ্‌বিতণ্ডাও হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে সাতজন সাবেক সেনা কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যাদের উপস্থিতি বা সংশ্লিষ্টতা অনুসন্ধানে উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়। তাদের মধ্যে রয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এটিএম আমিন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) চৌধুরী ফজলুল বারী, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আফজাল নাছের চৌধুরী, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আব্দুর রব খান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. ফরিদ উদ্দিন এবং মেজর (অব.) মনির।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তারেক রহমান দেশত্যাগ করেন। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তাকে একটি অঙ্গীকারপত্রে সই করিয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিলো।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

ফিটনেসবিহীন গাড়ির চালকের আসনে তারেক রহমান: হাসনাত
ড. ইউনূসকে হেনস্তা, ৪ আওয়ামী জঙ্গি শনাক্ত
এনসিপির শীর্ষ চার পদ বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত, বদলাচ্ছে নেতৃত্ব
ড. ইউনূসকে হেনস্তা, ১২ সাবেক উপদেষ্টার নিন্দা
মুচলেকা দিয়ে পুলিশি পাহারায় ক্যাম্পাস ছাড়লেন চুয়েট ভিসি
ড. ইউনূসের হেনস্তার দায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর: নাহিদ
যুক্তরাষ্ট্রে ড. ইউনূসকে হেনস্তা, সরকারের নিন্দা
ড. ইউনূস ভালো আছেন, কোনও ক্ষতি হয়নি: লামিয়া মোরশেদ
মোদিবিরোধী আন্দোলনে বাজলো হাসিনাবিরোধী প্রতিবাদী গান
পাখি আমদানির আড়ালে শত কোটি টাকা পাচার
ওয়ান ব্যাংকে অভিজ্ঞতা ছাড়াই নিয়োগ
বিএনপি’র সাবেক এমপি সালাহউদ্দিন আহমেদ আর নেই
ইরানে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করে ফেলেছি: ট্রাম্প
ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় জুলাই জার্নালিস্ট ইউনিটির নিন্দা ও প্রতিবাদ
টেস্টে লিটন দাসের বিশ্বরেকর্ড
চুয়েটে ২৪ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ উপাচার্যসহ ১১ জন
নিউইয়র্কে ইউনূসকে হেনস্তা, ব্যবস্থা নেবে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা