সংসদে এমপিদের অনুপস্থিতিতে ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী, কারণ দর্শানোর নির্দেশ
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পাসের দিন জাতীয় সংসদের সকালের অধিবেশনে সরকারদলীয় কয়েকজন সংসদ সদস্যের অনুপস্থিতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। গুরুত্বপূর্ণ এ অধিবেশনে অনুপস্থিত থাকা এমপিদের কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে অধিবেশন শেষে তাঁদের সংসদে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
সংসদ অধিবেশন শেষে প্রধানমন্ত্রী তাঁর কার্যালয়ে কয়েকজন হুইপ এবং অনুপস্থিত সংসদ সদস্যদের ডেকে পাঠান। একাধিক হুইপ ও সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট পাস হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকাল পৌনে ১০টার আগেই সংসদে উপস্থিত হন। সকাল ১১টায় মুলতবি অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এর অন্তত ১৫ মিনিট আগে সব সংসদ সদস্যকে উপস্থিত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
তবে অধিবেশন শুরুর সময় সরকারদলীয় বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য অনুপস্থিত থাকায় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি উপস্থিত হুইপদের কাছে জানতে চান কেন গুরুত্বপূর্ণ বাজেট অধিবেশনে দলীয় এমপিরা অনুপস্থিত ছিলেন।
পরে হুইপদের নির্দেশ দেওয়া হয়, অনুপস্থিত প্রত্যেক সংসদ সদস্যের কাছ থেকে কারণ দর্শানোর ব্যাখ্যা নিতে এবং অধিবেশন শেষে তাঁদের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উপস্থিত হতে বলতে।
অনুপস্থিত থাকা ফরিদপুর অঞ্চলের এক সংসদ সদস্য বলেন, সকালে যথাসময়ে অধিবেশনে যোগ না দেওয়ার কারণে প্রধানমন্ত্রী ডেকেছেন। আল্লাহই জানেন, কপালে কী আছে।
এ সময় পাশে থাকা আরেক সংসদ সদস্য রসিকতা করে বলেন, এমনিতেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাই না। যাক, এ উসিলায় অন্তত তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ হবে।
একজন হুইপ জানান, বাজেট অধিবেশনের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী সরকারদলীয় এমপিদের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। কয়েকজনকে অনুপস্থিত দেখে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং অনুপস্থিতির কারণ জানতে চান। পরে তিনি নির্দেশ দেন, সংশ্লিষ্ট এমপিদের কারণ দর্শাতে হবে এবং অধিবেশন শেষে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে হবে।
এর আগেও সংসদে অনুপস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। গত ১৭ জুন মৌলভীবাজার সফরে সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে সিলেট অঞ্চলের কয়েকজন সংসদ সদস্য তাঁকে স্বাগত জানাতে সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
তাঁদের দেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা এখানে কেন? আজকে আপনাদের সংসদ নেই?
প্রধানমন্ত্রীর এ মন্তব্যের পর সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী সেদিন বিকেলেই ঢাকায় ফিরে সংসদ অধিবেশনে যোগ দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে বাজেট পাসের পর প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ সময় সংসদে তাঁর কার্যালয়ে অবস্থান করেন। অধিবেশনের বিরতির সময়ও তিনি বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিতে স্বাক্ষর করেন।
অন্যদিকে ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এবার বাজেট-পরবর্তী ঐতিহ্যবাহী নৈশভোজও বাতিল করা হয়েছে। এতে সরকারের প্রায় ৫০ লাখ টাকা সাশ্রয় হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সকাল থেকেই সংসদে উপস্থিত ছিলেন এবং বাজেটের মঞ্জুরি দাবির ওপর ভোট গ্রহণ, আইন প্রণয়নসহ অধিবেশনের সব গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে অংশ নেন। পাশাপাশি বিরতির সময় তিনি সরকারি জরুরি ফাইল নিষ্পত্তিও করেন।
আতিকুর রহমান রুমন আরও জানান, সরকারি ব্যয় কমানোর নীতির অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বাজেট-পরবর্তী নৈশভোজ আয়োজন না করার নির্দেশ দেন। এতে সরকারের প্রায় ৫০ লাখ টাকা সাশ্রয় হয়েছে।
প্রসঙ্গত, প্রতিবছর বাজেট পাসের দিন রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে অর্থ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নিয়ে থাকেন। এবার সেই আয়োজন বাতিল করা হয়েছে সরকারের ব্যয় সাশ্রয়ের উদ্যোগের অংশ হিসেবে।
সবার দেশ/এফও




























