রাশিয়া থেকে এলো ইউরেনিয়াম, ভোরে রূপপুরের পথে
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ইউরেনিয়ামের নতুন চালান রাশিয়া থেকে বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত ১১টা ৪৪ মিনিটে ইউরেনিয়ামবাহী একটি কার্গো বিমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাশিয়ার পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের বাংলাদেশে জনসংযোগ প্রতিষ্ঠান ট্রাইউইন গ্রুপের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা।
তিনি জানান, বিমান থেকে ইউরেনিয়ামবাহী চালান গাড়িতে তুলতে প্রায় চার ঘণ্টা সময় লাগবে। এরপর শনিবার ভোররাত ৪টার দিকে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে ঢাকার বিমানবন্দর থেকে ইউরেনিয়ামবাহী গাড়ি পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প এলাকায় নিয়ে যাওয়া হবে।
এর আগে শুক্রবার বিকেলে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছিলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জ্বালানিবাহী বিমান রাশিয়া থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। ভারত হয়ে বিমানটি ঢাকায় পৌঁছাবে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, জ্বালানিবাহী বিমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ইউরেনিয়ামের চালান রূপপুরে নেয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় চালানটি রূপপুর প্রকল্প এলাকায় পৌঁছে দেয়া হবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বরের মধ্যে মোট নয়টি ফ্লাইটে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য অতিরিক্ত ৪৮টি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি বাংলাদেশে আসবে। রাশিয়া থেকে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভারত হয়ে এসব চালান বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর ইউরেনিয়ামের চালান দেশে আসার কথা থাকলেও পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারে জটিলতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরে বিকল্প ব্যবস্থায় চালানটি বাংলাদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হয়।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জ্বালানি এর আগে ২০২৩ সালে বাংলাদেশে এসেছিলো। চলতি বছরের মে মাসে সে জ্বালানি পারমাণবিক চুল্লিতে স্থাপন করা হয়েছে।
নতুন চালান পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে রূপপুর প্রকল্পের জ্বালানি সরবরাহ কার্যক্রম আরও এগিয়ে গেলো। প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি অ্যাসেম্বলও ধাপে ধাপে দেশে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























