পাকিস্তানে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলা, সেনা চেকপোস্টে নিহত ২৭
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে আবারও রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনা ঘটেছে। খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের ট্যাঙ্ক জেলায় একটি নিরাপত্তা চেকপোস্টে আত্মঘাতী গাড়ি বোমা হামলায় অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৫ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং ১২ জন হামলাকারী রয়েছেন। হামলার দায় স্বীকার করেছে নিষিদ্ধ জঙ্গিগোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে আফগানিস্তান সীমান্তসংলগ্ন ট্যাঙ্ক জেলার ওই চেকপোস্টে হামলাটি চালানো হয়।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়, একদল ভারী অস্ত্রে সজ্জিত হামলাকারী প্রথমে নিরাপত্তা চেকপোস্টে জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা চালায়। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাদের প্রতিরোধ করলে হামলাকারীরা বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি চেকপোস্টের সীমানা প্রাচীরে আঘাত করে।
প্রচণ্ড বিস্ফোরণে চেকপোস্টের সীমানা প্রাচীর এবং ভবনের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই ১২ জন সেনাসদস্য, দুইজন পুলিশ কর্মকর্তা এবং একজন বন বিভাগের কর্মকর্তা নিহত হন।
হামলার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে পাল্টা অভিযান শুরু করে। কয়েক ঘণ্টাব্যাপী বন্দুকযুদ্ধের পর ১২ জন হামলাকারী নিহত হয় বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী।
এদিকে হামলার দায় স্বীকার করে টিটিপি দাবি করেছে, অভিযানে তাদের চারজন আত্মঘাতী সদস্য অংশ নিয়েছিলো। তবে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনও মন্তব্য করেনি।
২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ও সরকারি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে। বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়া, বান্নু এবং আফগান সীমান্তসংলগ্ন এলাকাগুলোতে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সংগঠনটির তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
নিরাপত্তাবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (সিআরএসএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে পাকিস্তানে সহিংসতায় ১ হাজার ৬২০ জন নিহত হলেও পরের বছরে এ সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ৩৩১ জনে পৌঁছেছে। এতে দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, টিটিপির সদস্যরা আফগানিস্তানের ভূখণ্ডকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করে সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে হামলা চালায়। তবে আফগান তালেবান সরকার বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, এটি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সমস্যা।
এদিকে সীমান্ত নিরাপত্তা ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনাও বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান সীমান্তবর্তী আফগান এলাকায় একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে আফগান সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে কয়েক দফা গোলাগুলির ঘটনাও ঘটেছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এসব সংঘর্ষে চলতি বছরে শত শত আফগান বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।
পাকিস্তানের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত এলাকায় জঙ্গি তৎপরতা বৃদ্ধি এবং টিটিপির ধারাবাহিক হামলা দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য নতুন করে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
সবার দেশ/কেএম




























