সংরক্ষিত নারী আসন
বিএনপির মনোনয়ন পেলেন ‘আওয়ামী লীগ নেত্রী’ সুবর্ণা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর নতুন বিতর্কে জড়িয়েছে বিএনপি। দলটির মনোনীত প্রার্থীদের তালিকায় থাকা সুবর্ণা শিকদার (ঠাকুর)কে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।
সোমবার ৩৬ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে বিএনপি। এতে ২০ নম্বরে রয়েছে সুবর্ণা শিকদারের নাম। তবে অভিযোগ উঠেছে, তিনি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের একজন নেত্রী।
দলীয় সূত্র অনুযায়ী, ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের পর ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ করা হয়। ওই তালিকায় বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে সুবর্ণা ঠাকুরের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিলো, যা গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জি এম সাহাবুদ্দিন আজম-এর স্বাক্ষরে অনুমোদিত হয়।

এরপর ২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে দলীয় আবেদন ফরম সংগ্রহ করেন। তবে আওয়ামী লীগ তাকে মনোনয়ন দেয়নি।
এবার আর ব্যর্থ হননি সুবর্ণা সিকদার। বিএনপির মনোনয়ন চেয়ে সফল হয়েছেন।
এ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়লে সুবর্ণা ঠাকুর দাবি করেন, আওয়ামী লীগের কমিটিতে তার নাম ব্যক্তিগত সম্মতি ছাড়া অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিলো। তিনি বলেন,
আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলাম না, অনুমতি ছাড়াই আমার নাম কমিটিতে দেয়া হয়েছিলো।
তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবিতে আওয়ামী লীগের অনুষ্ঠান ও কর্মসূচিতে তার উপস্থিতি দেখা গেছে, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে তার দাবির সত্যতা নিয়ে।

এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সুবর্ণা ঠাকুর উপজেলা আওয়ামী লীগের পদে ছিলেন এবং এখন তা অস্বীকার করা সঠিক নয়। তার দাবি, নতুন রাজনৈতিক অবস্থান লাভের জন্য তিনি পূর্বের দলীয় পরিচয় অস্বীকার করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সংরক্ষিত আসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ মনোনয়নে এমন বিতর্ক বিএনপির জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে এটি দলীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।
সবার দেশ/কেএম




























