অবরোধ না তুললে আলোচনায় নয়
ইসলামাবাদ বৈঠক বয়কট করছে ইরান
মার্কিন নৌ-অবরোধ বহাল থাকা অবস্থায় কোনো ধরনের শান্তি আলোচনায় অংশ না নেয়ার কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। এ সিদ্ধান্তের ফলে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ-এ অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন বৈঠকেও কোনও প্রতিনিধিদল পাঠাচ্ছে না তেহরান।
রোববার (১৯ এপ্রিল) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি এক প্রতিবেদনে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত ইরান কোনও কূটনৈতিক আলোচনায় বসবে না। তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, অবরোধ বহাল রেখে আলোচনার প্রস্তাব বাস্তবসম্মত নয় এবং এটি চাপ সৃষ্টির কৌশল মাত্র।
এদিকে কূটনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যেই সোমবার (২০ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স-এর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের ইসলামাবাদে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ওয়াশিংটন এ বৈঠককে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা নিরসনের শেষ সুযোগ হিসেবে তুলে ধরলেও, ইরানের অনড় অবস্থান পুরো প্রক্রিয়াকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে অবরোধ আরোপ, অন্যদিকে আলোচনার আহ্বান—এ দ্বিমুখী কৌশল কার্যকর কূটনীতির পরিবেশ তৈরি করতে ব্যর্থ হচ্ছে। ইরানের সাম্প্রতিক অবস্থান সে বাস্তবতাকেই সামনে এনেছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন শুধু অবরোধ জোরদার করেনি, বরং আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইরানি জাহাজ জব্দ এবং দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে হামলার হুমকিও দিয়েছে। এর জবাবে ইরান তাদের সামরিক বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
ইরানের সামরিক নেতৃত্ব জানিয়েছে, তাদের বাহিনী যেকোনও পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম। ফলে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হুমকি ও উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।
বর্তমান পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে, আর নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।
সবার দেশ/কেএম




























