সারজিস ও পাটওয়ারী আহত
এনসিপির পদযাত্রায় ছাত্রদল-যুবদলের হামলা
হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই জাগরণ পদযাত্রা ২০২৬’ কর্মসূচি শেষে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এনসিপির অভিযোগ, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের গাড়িবহরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে। এতে দলটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারীসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। তবে ছাত্রদল এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, এ ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনও নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততা নেই।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের থানা মোড় ও সদর হাসপাতালসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে।
এনসিপির নেতাকর্মীরা জানান, সমাবেশ শেষে সার্কিট হাউসের উদ্দেশে রওনা দিলে থানা মোড় এলাকায় তাদের ওপর হামলা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী, সারজিস আলমসহ কয়েকজন নেতা শহরের সোনালী ব্যাংকের কেন্দ্রীয় শাখায় আশ্রয় নেন। পরে সেখানে তারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দীর্ঘ চেষ্টার পর উত্তেজিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রাত প্রায় ৮টার দিকে পুলিশ নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমকে উদ্ধার করে নিরাপত্তার সঙ্গে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়।
হামলার বিষয়ে এনসিপি জেলা শাখার আহ্বায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, সন্ধ্যায় সমাবেশ শেষে কেন্দ্রীয় নেতা নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমকে নিয়ে সার্কিট হাউসে যাওয়ার সময় থানা মোড় এলাকায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায়। তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।
হামলার পর সারজিস আলম বলেন, তাদের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন।
তিনি বলেন,
কারও হাত ভেঙে গেছে, কারও মাথা ফেটে গেছে। জেলা সদস্য সচিবকে রড দিয়ে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেয়া হয়েছে। একজনের চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে নেয়ার সময় হাসপাতালের সামনেই আবার আমাদের ওপর হামলা করা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় সারজিস আলম অভিযোগ করেন, ছাত্রদল ও যুবদলের ‘সন্ত্রাসী বাহিনী’ এ হামলা চালিয়েছে। হামলায় ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়ার পাশাপাশি পুলিশের নিষ্ক্রিয়তারও অভিযোগ তোলেন তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন।
তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ হবিগঞ্জ শহরে কেউ যদি এসে অশালীন বক্তব্য দিয়ে শহরকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তার দায়ভার তাকেই নিতে হবে। আজ একটি অপ্রীতিকর ঘটনার খবর শুনেছি। তবে এর সঙ্গে ছাত্রদলের কোনও নেতাকর্মীর সম্পর্ক নেই। শুনেছি অশালীন বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ মানুষ ধাওয়া দিয়েছে। এ ঘটনায় ছাত্রদল বা বিএনপির কেউ জড়িত নয়।
এ ঘটনায় সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল হকের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, ‘জুলাই জাগরণ পদযাত্রা ২০২৬’ উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে পদযাত্রা ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশে অংশ নেন। পরে বিকেল সাড়ে ৫টায় জেলা শহরের সাইফুর রহমান টাউন হলের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে সার্কিট হাউসে ফেরার পথে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
সবার দেশ/কেএম




























