১১ দলীয় ঐক্য শুধু জাতীয় নির্বাচনে
স্থানীয় নির্বাচনে জোট নয়, আলাদা প্রার্থী: গোলাম পরওয়ার
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো জোটগত সমঝোতায় না গিয়ে দলগুলো পৃথকভাবে প্রার্থী দেবে বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, ১১ দলীয় ঐক্য জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ছিলো; স্থানীয় নির্বাচনে সে ঐক্য কার্যকর থাকবে না।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। দলীয়ভাবে নির্বাচনী প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের ওপর এখনও আস্থা রয়েছে জানিয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, নির্বাচন বর্জনের সময় এখনও আসেনি।
তবে ইসির অতিরিক্ত সচিবকে সরানোর দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। তার অভিযোগ, ওই কর্মকর্তা বিএনপির পদধারী। এ কারণে তার দায়িত্বে থাকা অবস্থায় নির্বাচন নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে বলে দাবি করেন জামায়াত নেতা।
তিনি বলেন, অতিরিক্ত সচিবকে দায়িত্বে রেখে নির্বাচন হলে তা নিরপেক্ষ হবে না।
তবে ইসি জানিয়েছে, ওই কর্মকর্তাকে সরকার নিয়োগ দিয়েছে—বৈঠকে কমিশনের পক্ষ থেকে এমন বক্তব্য দেয়া হয়েছে বলে জানান গোলাম পরওয়ার।
জাতীয় নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্য থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলগুলোর নির্বাচনী কৌশল ভিন্ন হবে বলে স্পষ্ট করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।
তিনি বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে দলগুলো নিজেদের দলীয় প্রতীক ও প্রার্থীদের নিয়ে পৃথকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। ফলে জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক সমঝোতা স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনে সরাসরি প্রতিফলিত হবে না।
এতে স্থানীয় নির্বাচনে একাধিক দলের প্রার্থীদের সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশগ্রহণের সুযোগ না দেয়ার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে জামায়াত।
গোলাম পরওয়ার বলেন, তারা জানতে পেরেছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। তার দাবি, এটি সংবিধানবিরোধী।
ইসি নিজেই এ বিষয়ে সুপারিশ করেছে বলে দাবি করে তিনি সে সুপারিশ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের কোনও নেতা যাতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে সুপারিশ করেছে জামায়াত।
গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে তারা এ বিষয়টিও তুলে ধরেছেন। স্থানীয় নির্বাচনের প্রার্থী বাছাই ও যোগ্যতার ক্ষেত্রে এ বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করে দলটি।
একদিকে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা থাকার কথা জানাচ্ছে জামায়াত, অন্যদিকে কমিশনের কয়েকটি সিদ্ধান্ত ও কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে দলটি।
গোলাম পরওয়ারের বক্তব্যে এ দ্বৈত অবস্থানই স্পষ্ট হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয়ার মতো পরিস্থিতি এখনও তৈরি হয়নি। বরং স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে দল।
তবে নির্বাচনের নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করতে কমিশনকে কয়েকটি বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মনে করছে জামায়াত।
সবার দেশ/এমকেজে




























