জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ
চালু হলো বড়পুকুরিয়ার তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তৃতীয় ইউনিট
দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সবচেয়ে বড় ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটটি দীর্ঘ ছয় মাস ২০ দিন বন্ধ থাকার পর আবারও চালু করা হয়েছে। বুধবার (২০ মে) বিকেলে ইউনিটটি উৎপাদনে ফিরলে বর্তমানে সেখান থেকে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে ইউনিটটি পূর্ণ সক্ষমতার কাছাকাছি উৎপাদনে যেতে পারবে। তখন এ ইউনিট থেকে ২৫০ থেকে ২৬০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসের শেষ সপ্তাহে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কেন্দ্রটির তৃতীয় ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। এর পর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে মেরামত ও কারিগরি কাজ চলার পর বুধবার বিকেল ৫টা ৪৬ মিনিটে ইউনিটটি পুনরায় চালু করা হয়।
বর্তমানে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। তৃতীয় ইউনিট পূর্ণ উৎপাদনে গেলে দুটি ইউনিট মিলিয়ে গড়ে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক বলেন, বুধবার বিকেল ৫টা ৪৬ মিনিট থেকে তৃতীয় ইউনিটটি চালু করা হয়েছে। বর্তমানে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হচ্ছে এবং তা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। আশা করছি বৃহস্পতিবার থেকে ২৫০-২৬০ মেগাওয়াট উৎপাদন সম্ভব হবে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে দুটি ইউনিট সচল রাখতে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ২০০ টন কয়লার প্রয়োজন হবে। বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে সরবরাহ পাওয়া কয়লার ওপর নির্ভর করেই উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
২০০৬ সালে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির কয়লার ওপর নির্ভর করে ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি উৎপাদন শুরু করে। শুরুতে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট চালু করা হয়। পরে ২০১৭ সালে নতুন করে ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার তৃতীয় ইউনিট যুক্ত হলে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন সক্ষমতা বেড়ে দাঁড়ায় ৫২৫ মেগাওয়াটে।
তবে নানা কারিগরি জটিলতা ও যন্ত্রপাতির সমস্যার কারণে কেন্দ্রটি এখনো একসঙ্গে তিনটি ইউনিট চালিয়ে সর্বোচ্চ উৎপাদনে যেতে পারেনি। বর্তমানে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার দ্বিতীয় ইউনিটটি ২০২০ সাল থেকে বন্ধ রয়েছে।
দ্বিতীয় ইউনিটটির মেরামত নিয়েও কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক। তিনি বলেন, দ্বিতীয় ইউনিটটি সংস্কারের জন্য চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আশা করছি, সেটিও কিছু দিনের মধ্যে চালু করা সম্ভব হবে।
বিদ্যুৎ খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তৃতীয় ইউনিট চালু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং চলমান গরমে লোডশেডিং কিছুটা কমে আসতে পারে।
সবার দেশ/কেএম




























