একজন মনির মেম্বারকে ঘিরে হাসনাত আবদুল্লাহর হৃদয়ছোঁয়া গল্প
‘খেলোয়াড় ট্রফি দেখতে নয়, জিততে আসে’
নির্বাচনী রাজনীতিতে বড় বড় নেতাদের বক্তব্য আর প্রচারণার ভিড়ে অনেক সময় আড়ালে থেকে যান নীরব কর্মী-সমর্থকরা। কিন্তু বাস্তবে তারাই হয়ে ওঠেন বিজয়ের অদৃশ্য চালিকাশক্তি। তেমনই এক ব্যতিক্রমী চরিত্র মনির মেম্বার, যার একটি বক্তব্য এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জানা যায়, বড় শালঘর ইউনিয়নের বাসিন্দা মনির মেম্বারকে ঘিরে প্রথম আলোচনার সূত্রপাত হয় একটি ভাইরাল ভিডিও থেকে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, অন্য একটি রাজনৈতিক দলের একজন ব্যক্তি তাকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন—
হাসনাতের দল করে লাভ কী? হাসনাত তো কেন্দ্রে এজেন্টও দিতে পারবে না। ওর দল ছেড়ে দেন।
কিন্তু জবাবে মনির মেম্বার যে কথাগুলো বলেন, তা উপস্থিত অনেককেই অবাক করে দেয়। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন,
যদি হাসনাত দুইটা ভোট পায়, তাহলে একটা হবে হাসনাতের নিজের, আরেকটা আমার। আর যদি একটা ভোটও পায়, সেটাও হবে মনির মেম্বারের।
এ বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে মনির মেম্বারের নাম আলোচনায় আসে। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর সঙ্গে তার সরাসরি পরিচয় হয়।
নির্বাচনে জয় লাভের পর ওই হাসনাত আবদুল্লাহ যখন মনির মেম্বারকে জিজ্ঞাসা করেন—দেখা করতে আসলেন না কেনো?, তখন তার উত্তরে আবারও উঠে আসে এক ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক দর্শন। মনির মেম্বার বলেন,
খেলোয়াড় ট্রফি দেখতে আসে না, খেলোয়াড় ট্রফি জিততে আসে। আমাদের জেতা শেষ, এখন আমরা পরের ম্যাচের ট্রফি জেতার প্রস্তুতি নিচ্ছি, যাতে দর্শক দেখতে পারে।
তিনি আরও যোগ করেন, আবার যখন আপনার দরকার হবে, আপনাকে আমাদের খুঁজতে হবে না। মাঠে যদি একজন মানুষও আপনার পাশে দাঁড়িয়ে থাকে, বুঝবেন—এ মনির মেম্বার তখনও একই জায়গায় আছে।
মনির মেম্বারের এ বক্তব্য শুধু ব্যক্তিগত আনুগত্য নয়, বরং এক ধরনের নীরব কিন্তু দৃঢ় রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির প্রতিচ্ছবি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। যেখানে প্রচার নয়, কাজই হয়ে ওঠে পরিচয়ের মূল ভিত্তি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মাঠপর্যায়ের এমন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ও সমর্থকরাই একটি দলের শক্তির আসল ভিত্তি। তারা প্রচারের আলোয় না এলেও, সংকট কিংবা নির্বাচনের কঠিন সময়ে নিঃশব্দে ভূমিকা রাখেন।
এমন অনুচ্চারিত, নিরব কিন্তু অটল সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী বলেন, এরা কোনও দাবি বা স্বীকৃতির প্রত্যাশা না করেই পাশে দাঁড়ান। স্বার্থের হিসাব-নিকাশের বাইরে গিয়ে, প্রয়োজনের সময় নির্ভরতার জায়গা তৈরি করেন।
এ ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দেয়—রাজনীতির ময়দানে বড় বক্তৃতার চেয়ে অনেক সময় ছোট কিন্তু দৃঢ় অবস্থানই ইতিহাস গড়ে দেয়।
সবার দেশ/কেএম




























