পয়লা বৈশাখে ঢাকায় নারী হেনস্তা—ভাইরাল ভিডিওটি ভারতের
পয়লা বৈশাখে ঢাকার মোহাম্মদপুরে গর্ভবতী এক নারী যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন—এমন দাবি দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ২১ সেকেন্ডের ভিডিওটি বিভ্রান্তিকর। যাচাইয়ে দেখা গেছে, এটি বাংলাদেশের নয়; ভারতের রাজস্থান রাজ্যের রাজধানী জয়পুরে ঘটা একটি পুরোনো ঘটনা।
মঙ্গলবার বাংলা নববর্ষ উদযাপনের দিন ভিডিওটি বিভিন্ন ফেসবুক পোস্টে ছড়ানো হয়। কোথাও দাবি করা হয়, নতুন বাংলাদেশে পয়লা বৈশাখে মোহাম্মদপুরে গর্ভবতী মহিলাকে যৌন নির্যাতন, আবার কোথাও বলা হয়, বিএনপির সন্ত্রাসীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এসব পোস্টের মন্তব্যে অনেকে ঘটনাটিকে ঢাকার বাস্তব ঘটনা মনে করে প্রতিক্রিয়া জানান।
তবে ভিডিওটির কয়েকটি স্থিরচিত্র রিভার্স ইমেজ সার্চ করে দেখা যায়, এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ভারতের ইউটিউব চ্যানেল রাজস্থান তাক-এ, গত ১২ এপ্রিল। সেখানে ভিডিওটির বর্ণনায় বলা হয়েছে, জয়পুরে ফোনে কথা বলার সময় এক নারীকে পেছন থেকে আক্রমণ করে এক ব্যক্তি—যা শহরটির নারীদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

পরবর্তী অনুসন্ধানে টাইমস অব ইন্ডিয়াসহ একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ঘটনাটি ঘটে গত ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় জয়পুরের মালভিয়া নগরের সেক্টর-৯ এলাকায়। অভিযোগ অনুযায়ী, এক ব্যক্তি পেছন থেকে এসে ওই নারীর ওপর হামলা চালায়। নারী চিৎকার করলে হামলাকারী পাথর দিয়ে ভয় দেখিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ১২ এপ্রিল দুই পুলিশ সদস্যকে বরখাস্তও করা হয়।
অতএব, পয়লা বৈশাখে মোহাম্মদপুরে নারী হেনস্তার দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা; ভাইরাল ভিডিওটি ভারতের জয়পুরের ঘটনা।
রমনা পার্কে ‘জঙ্গি হামলা’ দাবিও ভুয়া
একইভাবে পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে রমনা পার্কে বোমা হামলা ও জঙ্গি হামলার দাবিতে আরেকটি ভিডিওও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো হয়। কিন্তু যাচাইয়ে জানা গেছে, সেটিও বিভ্রান্তিকর। ভিডিওটি বাস্তব হামলার নয়; বরং বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে পুলিশের সোয়াট ও ডগ স্কোয়াডের নিরাপত্তা মহড়ার দৃশ্য।

দৈনিক ইত্তেফাকের ইউটিউব চ্যানেলে ১২ এপ্রিল প্রকাশিত ভিডিওতে একই দৃশ্য পাওয়া গেছে, যেখানে স্পষ্টভাবে এটিকে নিরাপত্তা মহড়া হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ভিডিওতে সাংবাদিকের কণ্ঠেও মহড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে রমনা পার্কে কোনো জঙ্গি হামলার তথ্য কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে পাওয়া যায়নি। বরং পয়লা বৈশাখে সেখানে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ফলে, দুটি ঘটনাই সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার হিসেবে ছড়ানো হয়েছে—একটি ভারতের পুরোনো ভিডিওকে ঢাকার ঘটনা বলা হয়েছে, অন্যটি নিরাপত্তা মহড়াকে হামলা বলে প্রচার করা হয়েছে।
সূত্র: প্রথম আলো ফ্যাক্ট চেক
সবার দেশ/কেএম




























