Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৩:০৭, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ডাকসুর ফলাফল নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানালেন হাসনাত আব্দুল্লাহ

ডাকসুর ফলাফল নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানালেন হাসনাত আব্দুল্লাহ
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ফলাফল রাতেই ঘোষণা করা হবে। এরই মধ্যে ফলাফলকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন প্রার্থী অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন। এ পরিস্থিতিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দিয়েছেন।

পোস্টে তিনি লিখেছেন, 

আজ ডাকসুতে যারা জিতবে, তারা কীভাবে দায়িত্ব নেবে এবং যারা হারবে, তারা কীভাবে পরাজয় গ্রহণ করবে, এ দুইটি প্রশ্নের উত্তর বলেই দেবে আমাদের জাতীয় রাজনীতি ও গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাচ্ছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, ডাকসু নির্বাচন কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নয়, বরং গোটা জাতির রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও সহনশীলতার প্রতিফলন। তাই এ নির্বাচনের ফলাফল ও তা ঘিরে প্রার্থীদের আচরণ আগামী দিনের জাতীয় রাজনীতির পথচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

হাসনাত আব্দুল্লাহর সেই স্ট্যাটাসের বাকি অংশ হুবহু নিচে তুলে ধরা হলো-

একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলো যেভাবে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নিজেদের প্রভাব দেখিয়েছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পেশিশক্তি, জনশক্তি এবং সংগঠিত উপস্থিতির মাধ্যমে নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার যে চেষ্টা চলছে, তা ছাত্র রাজনীতির নিজস্ব চরিত্রকে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ডাকসু এখন কেবল ছাত্রদের ম্যান্ডেট বহন করছে না, বরং পরিণত হয়েছে জাতীয় রাজনৈতিক দলের একটি এক্সটেনশন গেমে, যা ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত নেতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো।

এর পাশাপাশি শিক্ষক থেকে শুরু করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, সবার প্রতি এক ধরনের গণহারে ট্যাগ বসানোর প্রবণতাও আজ স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। এই প্রবণতা শেখ হাসিনার শাসনামলের রাজনৈতিক বাস্তবতারই ধারাবাহিকতা, যেখানে বিভাজন, সন্দেহ আর দমননীতি ছিল প্রাতিষ্ঠানিক। এই মানসিকতা দীর্ঘমেয়াদে আমাদের রাজনীতিকে অনিরাপদ ও সংকুচিত করে তুলবে।ট্যাগিং ও বর্গীয় রাজনীতির অবশ্যই অবসান হতে হবে।

ছাত্র রাজনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে হলে এমন একটি সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেখানে নিয়মিতভাবে নতুন নেতৃত্ব আসবে, পরাজয়কে পরবর্তী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গ্রহণ করা হবে।

ডাকসু নির্বাচন সেই সংস্কৃতি তৈরির একটি সম্ভাব্য শুরু হতে পারত। হতে পারত বলছি, কারণ এই ভোটের ফলাফল গ্রহণ নিয়ে এখনো এক ধরনের অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। রাজনৈতিক দলগুলো এই ফলাফলকে ঘিরে শক্তি প্রদর্শনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য যথেষ্ট ক্ষতিকর।

সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের উচিত ভোটারদের রায়কে সম্মান করা এবং জনগণের চাওয়াকে মাথা পেতে নেওয়ার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা। সব সময় জয়ী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা গণতন্ত্র নয়। গণতন্ত্রের অন্যতম মূল ভিত্তি হচ্ছে সহিষ্ণুতা। যাকে আমি ব্যক্তিগতভাবে অপছন্দ করি, তাকেও যদি জনগণ বেছে নেয়, সেই বেছে নেওয়াকে সম্মান করাই গণতন্ত্র।

এই পরিস্থিতিতে আমি দেশের সব রাজনৈতিক দলকে শান্ত থাকার আহ্বান জানাই। নিজেদের স্বল্পমেয়াদি রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত করার ফলাফল আমরা গত ১৭ বছর ধরে দেখেছি। এখন সময় এসেছে এই চক্র থেকে বেরিয়ে এসে জনগণের চাওয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়ার। পরাজয়কে সম্মানিত করার সংস্কৃতি গড়ে তোলার। নইলে আগামী দিনের রাজনীতি জয়ীদের উল্লাস আর পরাজিতদের ক্ষোভে বন্দী থেকে যাবে, আর গণতন্ত্র কোনদিন পূর্ণতা পাবে না।

সবার দেশে/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

নরসিংদীতে শিশুর পা মুচড়ে দেয়া সে চাচি গ্রেফতার
‘পানি লাগবে পানি’ বলতে বলতেই নিভে যায় মুগ্ধর জীবন
উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে উত্তরের ৫ জেলায় বন্যার শঙ্কা
মেসিকে নিয়ে আবেগঘন বার্তা শাকিরার
যুবদল নেতার প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল নেতাদের হামলা
টকশোতে অনেকে হাসিনাকে প্রাসঙ্গিক করার চেষ্টা করছেন: রিজভী
মেক্সিকোতে ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্প, উপকূলে সুনামি সতর্কতা
কাশিমপুর মহিলা কারাগার থেকে বন্দি পলায়ন
কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকার নেতৃত্বে সাঈদ-জসিম
যুদ্ধ চাই না, তবে প্রস্তুত আছি: ইরানের স্পিকার
গণভোট ও জুলাই সনদ প্রসঙ্গ টানতেই ক্ষুব্ধ বিএনপি নেতা
চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত
ইংল্যান্ডকে হারিয়েই ফের ফিফা র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে আর্জেন্টিনা
হাসিনার আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই, ফিরলেই গ্রেফতার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
গণভোটের চার প্রশ্ন না বুঝলে ৩১ দফা বুঝলো কীভাবে-প্রশ্ন জামায়াত আমিরের
নৌবাহিনীর নতুন প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মিসবাহ উল আজীম
রাবিতে ‘ছাত্রলীগমুক্ত দিবস’ উপলক্ষে প্রতীকী ‘দে ধাওয়া’ কর্মসূচি
ছাত্রলীগ-আওয়ামী লীগের প্রশ্নে কোনও ছাড় নয়-আবু সাঈদের কবরের পাশে ছাত্রদলের প্রতিজ্ঞা