Sobar Desh | সবার দেশ ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০:৫১, ৯ জুলাই ২০২৬

রেফারিদের সততা নিয়ে প্রশ্নের সুযোগ নেই

মিসরের অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন কলিনা

একজন খেলোয়াড় প্রতিপক্ষের পায়ে আঘাত করলে বা অবৈধভাবে বাধা দিলে সেটি ফাউল। কিন্তু একজন ডিফেন্ডার যদি আগে বলে স্পর্শ করেন এবং এরপর স্বাভাবিক শারীরিক সংস্পর্শ হয়, তাহলে সেটিকে ফাউল হিসেবে গণ্য করা যায় না। এ ঘটনাটিও সে ধরনের ছিলো।

মিসরের অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন কলিনা
ছবি: সংগৃহীত

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নাটকীয় হারের পর রেফারিং নিয়ে মিসরের তোলা পক্ষপাতের অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ফিফার রেফারিং প্রধান পিয়েরলুইজি কলিনা। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ফিফা বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করা ম্যাচ কর্মকর্তারা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তাদের সিদ্ধান্তে কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রভাব খাটানোর সুযোগ নেই। এমনকি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোও রেফারিদের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতে পারেন না।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ফিফার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে কলিনা বলেন, রেফারিদের সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা ফুটবলেরই একটি স্বাভাবিক অংশ। তবে কোনও ধরনের প্রমাণ ছাড়াই ম্যাচ কর্মকর্তাদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলা শুধু অগ্রহণযোগ্যই নয়, এটি অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণও।

তিনি বলেন, রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা সব সময়ই থাকবে। এটি ফুটবলের অংশ। কিন্তু ভিত্তিহীন অভিযোগের কোনও স্থান নেই। ফিফা বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করা ম্যাচ কর্মকর্তাদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। তারা স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করেন এবং কোনও ধরনের বাহ্যিক চাপের মধ্যে থাকেন না।

কলিনার মতে, এমন অভিযোগ শুধু রেফারিদের পেশাগত মর্যাদাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং তাদের ব্যক্তিগত জীবন ও পরিবারের নিরাপত্তাকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। সোশ্যাল মিডিয়ায় উসকানিমূলক মন্তব্য ও ভিত্তিহীন অভিযোগ অনেক সময় ম্যাচ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও হুমকির পরিবেশ তৈরি করে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে মিসর প্রথমার্ধে দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দিয়ে ২-০ গোলে এগিয়ে যায়। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফিরে আসে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময়ের শেষ ভাগে সমতা ফেরানোর পর যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজের গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। অন্যদিকে অবিশ্বাস্যভাবে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয় মিসরকে।

ম্যাচ শেষে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। তিনি অভিযোগ করেন, ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সিদ্ধান্ত আর্জেন্টিনার পক্ষে গেছে এবং এমনও হতে পারে যে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের টুর্নামেন্টে টিকিয়ে রাখতে রেফারির ওপর কোনও ধরনের চাপ ছিলো।

শুধু কোচই নন, মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ম্যাচ পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তাদের দাবি, ম্যাচের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে ধারাবাহিকতা ও নিরপেক্ষতার অভাব ছিল, যা সরাসরি ম্যাচের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। সংস্থাটি এসব সিদ্ধান্ত পুনর্মূল্যায়নেরও দাবি জানায়।

মিসরের প্রধান অভিযোগ ছিলো দ্বিতীয়ার্ধে মোস্তফা জিকোর করা একটি গোল বাতিল করা নিয়ে। তাদের মতে, গোলের আগে ফাউলের যে সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছে, সেটি বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ছিলো না। এছাড়া আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের ঠিক আগে মোহাম্মদ সালাহকে ফাউল করা হলেও রেফারি কিংবা ভিএআর সেটি আমলে নেয়নি বলেও অভিযোগ তোলে তারা।

তবে এসব অভিযোগের প্রতিটি বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন কলিনা। তিনি বলেন, মোস্তফা জিকোর গোল বাতিলের ক্ষেত্রে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) যথাযথভাবেই হস্তক্ষেপ করেছে। কারণ আক্রমণ শুরু হওয়ার সময় মিসরের মারওয়ান আতিয়া আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে স্পষ্টভাবে ফাউল করেছিলেন।

কলিনার ভাষায়, 

ফাউল মানেই ফাউল। মাঠের রেফারি যদি কোনও কারণে সেটি দেখতে না পান, কিন্তু আক্রমণের ধারাবাহিকতায় ভিএআর সে ফাউল শনাক্ত করে, তাহলে নিয়ম অনুযায়ী ভিএআর রেফারিকে সেটি পর্যালোচনার সুযোগ দিতে পারে। এখানেও ঠিক সেটিই হয়েছে।

সালাহকে ঘিরে পেনাল্টির দাবির বিষয়েও তিনি একমত নন। কলিনা বলেন, রেফারি এবং ভিএআর উভয়ের মূল্যায়নেই মোহাম্মদ সালাহ ও হুলিয়ান আলভারেজের মধ্যে হওয়া সংস্পর্শ ছিলো স্বাভাবিক ফুটবলীয় লড়াইয়ের অংশ। সেখানে পেনাল্টি দেয়ার মতো কোনও অপরাধ ঘটেনি।

তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, 

একজন খেলোয়াড় প্রতিপক্ষের পায়ে আঘাত করলে বা অবৈধভাবে বাধা দিলে সেটি ফাউল। কিন্তু একজন ডিফেন্ডার যদি আগে বলে স্পর্শ করেন এবং এরপর স্বাভাবিক শারীরিক সংস্পর্শ হয়, তাহলে সেটিকে ফাউল হিসেবে গণ্য করা যায় না। এ ঘটনাটিও সে ধরনের ছিলো।

বিশ্বকাপে ভিএআরের ব্যবহার নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন ফিফার রেফারিং প্রধান। তিনি বলেন, ফুটবলে এমন কিছু সিদ্ধান্ত থাকে যেখানে ব্যক্তিগত বিচার-বিশ্লেষণের সুযোগ থেকেই যায়। একই ঘটনা ভিন্ন ভিন্ন মানুষ ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করতে পারেন। তবে এর অর্থ এ নয় যে সিদ্ধান্তটি ভুল ছিলো বা পক্ষপাতদুষ্ট ছিলো।

কলিনা জানান, পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ভিএআরের নির্ধারিত প্রটোকল কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়েছে। প্রতিটি ম্যাচে প্রযুক্তির ব্যবহার আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের (আইএফএবি) নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হয়েছে এবং এ বিষয়ে ফিফা সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট।

তিনি আরও বলেন, রেফারিদের কাজ অত্যন্ত কঠিন। প্রতিটি সিদ্ধান্ত সেকেন্ডের ভগ্নাংশের মধ্যে নিতে হয়। এরপর ভিডিও, বিভিন্ন ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল ও ধীরগতির রিপ্লে দেখে সে সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। কিন্তু মাঠের বাস্তব পরিস্থিতিতে ম্যাচ কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রেখেই দায়িত্ব পালন করেন।

মিসরের অভিযোগের জবাবে কলিনার এ মন্তব্যের মাধ্যমে ফিফা কার্যত স্পষ্ট করে দিয়েছে, আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচের বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলো আন্তর্জাতিক ফুটবল আইনের আলোকে যথাযথ ছিলো এবং রেফারিদের নিরপেক্ষতা নিয়ে ওঠা অভিযোগের কোনও ভিত্তি তারা খুঁজে পায়নি।

সূত্র: রয়টার্স

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

চীনে ভয়াবহ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত ২৮
মিসরের অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন কলিনা
যুদ্ধবিরতি ভেঙে মধ্যপ্রাচ্যে ফের সংঘাত
নতুন করে কাউকে ‘শেখ হাসিনা’ হতে দেয়া হবে না: সারজিস
কোয়ার্টারে সুইজারল্যান্ড, ইতিহাসে আর্জেন্টিনার দাপট
বিদ্যুতের চুক্তি বাতিল সম্ভব নয়, দাম কমানোর চেষ্টা চলছে: জ্বালানিমন্ত্রী
‘আজ রাতেই ইরানে শক্তিশালী হামলা’— হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের শঙ্কা, রাঙ্গামাটির সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ
সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল সরছে কাঁচপুরে, প্রকল্প অনুমোদন
শাপলা গণহত্যার তদন্ত শেষ, হাসিনাসহ বাহিনী প্রধানরা আসামী
সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়ায় আকস্মিক প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি
এনসিপির সমাবেশে হামলার ঘটনায় সংসদে উত্তাপ
দুই গোলে পিছিয়েও ইতিহাস গড়া জয় আর্জেন্টিনার
কোমে খামেনির জানাজায় জনসমুদ্র
সংসদে কথা বলতে দেয় না, জনসভায় বোমা নিক্ষেপ করা হয়: অভিযোগ নাহিদ ইসলামের
বন্যার কারণে দুই জেলার এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত
অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে মিশরকে কাঁদিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা