স্টার্কের বিধ্বংসী বোলিংয়ে ৬৪ রানে অলআউট বাংলাদেশ
মিচেল স্টার্কের বিধ্বংসী বোলিংয়ে ম্যাকাই টেস্টে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার এ বাঁহাতি পেসারের আগুনঝরা স্পেলের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি বাংলাদেশের ব্যাটাররা। ইনিংসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উইকেট হারানোর মিছিলে শেষ পর্যন্ত মাত্র ৬৪ রানেই অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ।
নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে এটি বাংলাদেশের চতুর্থ সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ। বাংলাদেশের সর্বনিম্ন টেস্ট স্কোর এখনও ৪৩ রান, যা ২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হয়েছিলো।
ডারউইন টেস্ট জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে ম্যাকাইয়ে নামলেও প্রথম ইনিংসেই যেন দুঃস্বপ্নের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। ম্যাকাইয়ের অভিষেক টেস্টে মিচেল স্টার্ক এমন এক স্পেল উপহার দেন, যার সামনে বাংলাদেশের টপ ও মিডল অর্ডার প্রায় সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়ে।
প্রথম বলেই বিপদ, এরপর স্টার্কের তাণ্ডব
বাংলাদেশের ইনিংসের প্রথম বল থেকেই শুরু হয় বিপর্যয়। মিচেল স্টার্কের ফুল লেন্থের ডেলিভারিতে খেলতে গিয়ে গালিতে ক্যামেরন গ্রিনের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার সাদমান ইসলাম।
পরের ওভারে আরও ভয়াবহ রূপ নেয় পরিস্থিতি। প্রথম দুই বলেই কোনও রান না করেই ফিরে যান তানজিদ হাসান তামিম ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। টানা দুই উইকেট নিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা তৈরি করেছিলেন স্টার্ক, যদিও পরের বলে সে কীর্তি গড়া হয়নি।
প্রথম তিন ব্যাটারেরই নামের পাশে যোগ হয় শূন্য। এরপর বাংলাদেশের বিপর্যয় থেকে ফেরার কোনও সুযোগই যেন তৈরি হয়নি।
মমিনুল হক কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও ইনিংসের পঞ্চম ওভারে স্টার্কের শিকার হন তিনি। ৯ রান করে ফিরে যান বাঁহাতি এ ব্যাটার। এরপর সপ্তম ওভারে লিটন দাসকেও শূন্য রানে এলবিডব্লিউ করে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন স্টার্ক।
মাত্র ২১ রানের মধ্যেই ৬ উইকেট হারিয়ে তখন ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ।
মুশফিক-মিরাজের প্রতিরোধও টিকলো না
এ ভয়াবহ পরিস্থিতিতে মেহেদী হাসান মিরাজকে নিয়ে ইনিংস সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ উইকেটে থেকেও দলকে বিপদমুক্ত করতে পারেননি তিনি।
৪২ বল মোকাবিলা করেও মাত্র ৫ রান করে প্যাট কামিন্সের বলে বোল্ড হন মুশফিক। এরপর মিরাজের দিকেই ছিল বাংলাদেশের শেষ ভরসা।
লাঞ্চ বিরতিতে যাওয়ার সময় স্বীকৃত ব্যাটার হিসেবে উইকেটে ছিলেন শুধু মিরাজ। ব্যক্তিগত ১১ রান নিয়ে দ্বিতীয় সেশনে ব্যাট করতে নামলেও বিরতির পর আর কোনও রান যোগ করতে পারেননি তিনি। প্যাট কামিন্সের করা ২৫তম ওভারের তৃতীয় বলে থার্ড স্লিপে বিউ ওয়েবস্টারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান মিরাজ।
ফিরতি ওভারে জশ হ্যাজলউডের বলে ১০ রান করে আউট হন হাসান মাহমুদ। এরপর তাসকিন আহমেদ ১ রান করে কামিন্সের শিকার হলে বাংলাদেশের ইনিংস সর্বনিম্ন স্কোরের কাছাকাছি চলে যায়।
শেষ উইকেটে তাইজুল-শরীফুলের লড়াই
তবে শেষ দিকে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন তাইজুল ইসলাম ও শরীফুল ইসলাম। শেষ উইকেটে দুজন মিলে ২৫ রানের জুটি গড়ে দলকে আরও বড় লজ্জা থেকে রক্ষা করেন।
বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ১৪ রান করেন শরীফুল ইসলাম। অন্যদিকে ১১ রানে অপরাজিত থাকেন তাইজুল ইসলাম। শেষ পর্যন্ত শরীফুল আউট হলে ৬৪ রানেই থামে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস।
২২ বলেই পাঁচ উইকেট, স্টার্কের নতুন কীর্তি
বাংলাদেশের ব্যাটিং ধসের প্রধান নায়ক মিচেল স্টার্ক। প্রথম সেশনে বাংলাদেশের প্রথম পাঁচ উইকেটের সবকটিই নেন তিনি। পরে শরীফুল ইসলামকেও আউট করে ইনিংসে নিজের উইকেটসংখ্যা দাঁড় করান ৬-এ।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়, পাঁচ উইকেট পূর্ণ করতে স্টার্কের প্রয়োজন হয়েছে মাত্র ২২ বল। বলের হিসেবে এটি টেস্ট ক্রিকেটে তার অন্যতম দ্রুততম পাঁচ উইকেট নেয়ার স্পেল। এর আগেও দ্রুততম ফাইফারের রেকর্ডে নিজের নাম লিখিয়েছেন তিনি। গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাত্র ১৫ বলে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার এ তারকা পেসার; সে ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অলআউট হয়েছিলো মাত্র ২৭ রানে।
ম্যাকাইয়ে এবারও স্টার্কের সে ভয়ংকর রূপের শিকার হলো বাংলাদেশ। ডারউইনের সাফল্যের আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামা টাইগাররা প্রথম ইনিংসেই এমন এক ধাক্কা খেলো, যেখান থেকে ম্যাচে ফিরে আসতে হলে বোলারদের দিতে হবে অসাধারণ কিছু।
স্কোরের সারাংশ:
বাংলাদেশ ৬৪ রানে অলআউট; শরীফুল ইসলাম ১৪, তাইজুল ইসলাম অপরাজিত ১১, মেহেদী হাসান মিরাজ ১১। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে মিচেল স্টার্ক নেন ৬ উইকেট।
সবার দেশ/কেএম




























