১৯৮ রানে গুটিয়ে দিলো অস্ট্রেলিয়াকে
টেস্ট ইতিহাসের সেরা দিন পার করলো বাংলাদেশ
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের নতুন স্বপ্নের শুরুটা হলো দুর্দান্তভাবে। দুই যুগ আগে যে দলটি অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে শুধু ভালো ক্রিকেট খেলার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামতো, সে বাংলাদেশ এবার জয়ের লক্ষ্য নিয়েই তাসমান পাড়ে পা রেখেছে। ডারউইন টেস্টের প্রথম দিনেই ব্যাটে-বলে দাপট দেখিয়ে সে আত্মবিশ্বাসের প্রমাণ দিয়েছে টাইগাররা।
অস্ট্রেলিয়ার ঘরের মাঠে তাদের প্রথম ইনিংস মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে দিয়ে দিন শেষে বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ইনিংসে এক উইকেটে ৯৬ রান করেছে। ফলে প্রথম দিনের খেলা শেষে অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে মাত্র ১০২ রানে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। হাতে আছে আরও ৯ উইকেট।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম দিনেই এমন দাপুটে পারফরম্যান্স বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় দিন হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে প্রতিপক্ষের ১০ উইকেট তুলে নেয়ার পর মাত্র এক উইকেট হারিয়ে দিনের শেষ করা টাইগারদের জন্য বড় অর্জন।
হাসানের আগুনে পুড়লো অস্ট্রেলিয়া
দিনের শুরুতে বল হাতে অস্ট্রেলিয়াকে চাপে ফেলে দেয় বাংলাদেশের পেস আক্রমণ। হাসান মাহমুদ ও এবাদত হোসেনদের তোপ সামলাতে পারেনি স্বাগতিক ব্যাটাররা।
অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে তারা। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর ছিলেন হাসান মাহমুদ। একাই ছয় উইকেট শিকার করে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান এ ডানহাতি পেসার।
৫৫ রান খরচ করে ৬ উইকেট নেয়া হাসানের বোলিং ফিগার শুধু তার ক্যারিয়ারেই নয়, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসেও বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে বাংলাদেশের কোনও বোলারের এটাই এখন সেরা বোলিং ফিগার।
বাংলাদেশি পেসারদের দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনে অস্ট্রেলিয়া দুইশ রানের গণ্ডিও পেরোতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ১৯৮ রানে অলআউট হয়ে যায় স্বাগতিকরা।
ব্যাটিংয়ে তানজিদ-মুমিনুলের প্রতিরোধ
অস্ট্রেলিয়াকে দ্রুত গুটিয়ে দেওয়ার পর ব্যাটিংয়েও দারুণ শুরু পায় বাংলাদেশ। দুই ওপেনার সাদমান ইসলাম ও তানজিদ তামিম নতুন বলের সুইং ও বাউন্স সামলে বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলছিলেন।
প্রথম উইকেটে দুজনের ব্যাট থেকে আসে ৩৬ রান। তবে ইনিংসের নবম ওভারে ছন্দপতন ঘটে। মিচেল স্টার্কের করা ওভারের দ্বিতীয় বলটি পায়ের ওপর ছিলো। অন সাইডে খেলতে গিয়ে বাড়তি বাউন্সে ব্যাটের কানায় লেগে বল চলে যায় অফ সাইডে। কভার পয়েন্টে নাথান লায়নের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান সাদমান।

৩০ বলে ২০ রান করে সাজঘরে ফেরেন এ ওপেনার। তবে তার বিদায়ের পরও বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে কোনও বড় ধস নামেনি।
তিন নম্বরে নেমে মুমিনুল হক বেশ দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেন। রক্ষণাত্মক ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি অস্ট্রেলীয় বোলারদের বাজে বলগুলো থেকে রান তুলে নেন তিনি। ফলে রান তোলার গতি সচল থাকায় চাপ তৈরি করতে পারেনি স্বাগতিক বোলাররা।
দিন শেষে ৪৯ বলে ৩৫ রান করে অপরাজিত রয়েছেন মুমিনুল। তার সঙ্গে অপরাজিত আছেন তানজিদ তামিম।
ধৈর্যের পরীক্ষায় সফল তানজিদ
দিনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি তানজিদ তামিমের ব্যাটিং। টেস্ট ক্রিকেটে এখনও খুব বেশি অভিজ্ঞতা হয়নি এ তরুণ ওপেনারের। কিন্তু ডারউইনের কঠিন কন্ডিশনে প্রথম দিনেই ধৈর্য ও সংযমের বড় পরীক্ষা দিয়েছেন তিনি।
বিশেষ করে অফ স্টাম্পের বাইরের বলগুলো খেলতে গিয়ে যথেষ্ট সতর্ক ছিলেন তানজিদ। অস্ট্রেলীয় পেসারদের ‘টিজিং জোনে’ বারবার বল করা সত্ত্বেও অহেতুক শট খেলেননি।
পরিস্থিতি বুঝে ইনিংস গড়ে দিন শেষে ৬৭ বল মোকাবিলা করে ৩২ রানে অপরাজিত রয়েছেন তিনি। তার সঙ্গে মুমিনুলের ৩৫ রানের জুটি বাংলাদেশকে প্রথম দিনের শেষভাগে স্বস্তির জায়গায় নিয়ে যায়।
জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছে প্রথম দিন
দিনের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং গুঁড়িয়ে দেয়া, এরপর নিজেদের ইনিংসে মাত্র এক উইকেট হারানো—সব মিলিয়ে ডারউইন টেস্টের প্রথম দিনটি বাংলাদেশের জন্য স্বপ্নের মতো কেটেছে।
অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে তাদেরই মাটিতে এমন দাপুটে শুরু বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস যে অনেকটাই বাড়িয়ে দেবে, তা বলাই যায়। অবশ্য টেস্টের এখনও অনেক পথ বাকি। তবে প্রথম দিনের পারফরম্যান্স অন্তত এটুকু বার্তা দিয়েছে—অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এবার শুধু ভালো ক্রিকেট খেলতে আসেনি বাংলাদেশ, লড়াই করে ম্যাচ জেতার সামর্থ্য নিয়েই এসেছে টাইগাররা।
সবার দেশ/কেএম




























