Sobar Desh | সবার দেশ আবু ইউসুফ


প্রকাশিত: ০১:০৫, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিষিদ্ধ বয়ান

ক্ষমার আদর্শের নামে জুলাই ধুয়ে যাওয়ার পথে!

ক্ষমার আদর্শের নামে জুলাই ধুয়ে যাওয়ার পথে!
ছবি: সবার দেশ

একটি জাতির ইতিহাসে কিছু সময় আসে, যা কেবল ক্যালেন্ডারের পাতায় আটকে থাকে না; বরং মানুষের স্মৃতি, রক্ত, অশ্রু আর আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে জাতির বিবেকের অংশ হয়ে যায়। বাংলাদেশের জন্য ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট তেমনই এক সময়। কিন্তু সে জুলাইয়ের রক্তাক্ত স্মৃতি, আত্মত্যাগ এবং ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষাকে ঘিরে সাম্প্রতিক কিছু রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নতুন করে প্রশ্ন তুলছে—আমরা কি খুব দ্রুত সবকিছু ভুলে যেতে চাইছি? ক্ষমার নামে কি জুলাইয়ের দায় ধীরে ধীরে মুছে ফেলার একটি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে?

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো অন্তত এমন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। রাষ্ট্রপতির কাছে করা আপিলের পর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সংস্কার আন্দোলনে শাস্তিপ্রাপ্ত ২০ কর্মকর্তার দণ্ডাদেশ বাতিল করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাদের দণ্ড বাতিল ও বিভাগীয় মামলার দায় থেকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কর্মকর্তারা মার্জনা চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেছিলেন এবং সে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই দণ্ড মওকুফ করা হয়।

একটি প্রশাসনিক আন্দোলনে অংশ নেয়া কর্মকর্তাদের শাস্তি মওকুফ করা হয়েছে—এটি নিজে কোনও অসাংবিধানিক বা অস্বাভাবিক বিষয় নয়। রাষ্ট্রপ্রধানের সাংবিধানিক ক্ষমতার আওতায় ক্ষমা বা দণ্ড মওকুফের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু প্রশ্নটি এখানে অন্য জায়গায়। যে সময়ে রাষ্ট্র ও সমাজ জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ড, নিপীড়ন ও দায় নির্ধারণের প্রশ্নে একটি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সে সময়ে একের পর এক ক্ষমা, পুনর্বাসন কিংবা দায়মুক্তির ঘটনা সাধারণ মানুষের মনে কী বার্তা দিচ্ছে? তাছাড়া জুলাই পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারকে ব্যর্থ করার প্রয়াসে অভিযুক্ত এ সকল এনবিআরের কর্মকর্তাদের দায়মুক্তি দিলে শুধু রক্তাক্ত জুলাই আরও রক্তাক্ত হবে না, ভবিষ্যত সরকারের জন্যও এক খারাপ উদাহরণ তৈরি হয়ে থাকবে।

আরও বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ঘিরে।

২০২৫ সালের ১২ মে সরকার আওয়ামী লীগ ও দলটির অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দলটির নেতা-কর্মীদের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার কথা বলা হয়। একই দিনে নির্বাচন কমিশনও আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করে।

কিন্তু এখন সে প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিট কার্যতালিকায় এসেছে। মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরের মো. আল আমিন নামের এক ব্যক্তি রিটটি করেছেন। রিটে ২০২৫ সালের ১২ মে জারি করা প্রজ্ঞাপনটি কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না—সে বিষয়ে রুল চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রুল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় প্রজ্ঞাপনটির কার্যক্রম স্থগিত চাওয়া হয়েছে।

আইনি প্রক্রিয়া চলবে। আদালত তার নিজস্ব বিবেচনা, আইন ও সংবিধানের আলোকে সিদ্ধান্ত দেবেন। কোনও রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের এখতিয়ার। তাই রিট হয়েছে বলেই আওয়ামী লীগের কার্যক্রম আবার বৈধ হয়ে গেলো—এমন ধারণা করার সুযোগ নেই। কিন্তু একই সঙ্গে এটিও সত্য, একটি রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা কিংবা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পেছনে যে অপরাধ, দায় ও বিচারপ্রক্রিয়ার প্রশ্ন রয়েছে, সেটি যেনো রাজনৈতিক সমঝোতা, ক্ষমতার হিসাব কিংবা নির্বাচনী সমীকরণের আড়ালে হারিয়ে না যায়।

এখানেই জুলাইয়ের প্রশ্নটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক তদন্তে জুলাই-আগস্ট ২০২৪-এর আন্দোলন দমনে গুরুতর ও পদ্ধতিগত মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য উঠে এসেছে। জাতিসংঘের হিসাবে ওই সময় প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়ে থাকতে পারেন। নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে বহু মানুষ নিহত ও আহত হন; নির্বিচারে গ্রেফতার, নির্যাতন এবং চিকিৎসাসেবা বাধাগ্রস্ত করার মতো ঘটনাও তদন্তে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে আন্দোলন-পরবর্তী প্রতিশোধমূলক সহিংসতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থাৎ জুলাই কেবল একটি রাজনৈতিক আন্দোলনের নাম নয়। জুলাই একটি ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের স্মারক। একজন নিহত শিক্ষার্থী, একজন গুলিবিদ্ধ শ্রমিক, একজন চোখ হারানো তরুণ, একজন পঙ্গু হয়ে যাওয়া কিশোর কিংবা নিখোঁজ স্বজনের অপেক্ষায় থাকা একটি পরিবার—প্রত্যেকের কাছে জুলাইয়ের অর্থ আলাদা। সে স্মৃতি কোনও রাজনৈতিক দলের স্লোগান নয়, কোনও সরকারের সম্পত্তিও নয়।

এ কারণেই জুলাইয়ের সঙ্গে ‘ক্ষমা’ শব্দটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন।

ক্ষমা মানবিক গুণ। প্রতিহিংসার রাজনীতি কোনও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের কাম্য নয়। অপরাধের বিচার মানেই প্রতিশোধ নয়। আবার বিচার চাওয়া মানেই প্রতিহিংসা নয়। সভ্য রাষ্ট্রের মূলনীতি হলো—অপরাধের দায় ব্যক্তির, সংগঠনের বা প্রতিষ্ঠানের যে স্তরেই থাকুক, তা প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি ন্যায়বিচারের সুযোগ পাবেন।

কিন্তু বিচার হওয়ার আগেই যদি রাজনৈতিক সুবিধার কারণে গুরুতর অভিযোগগুলোকে পাশ কাটিয়ে যায়া হয়, তাহলে সেটি ক্ষমা নয়; সেটি দায়হীনতার সংস্কৃতি তৈরি করতে পারে।

আজকের বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিপদ এখানেই।

রাজনৈতিক দলগুলো যখন নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে গিয়ে অতীতের বিতর্কিত রাজনৈতিক শক্তির নেতা-কর্মীদের নিজেদের দলে টানতে শুরু করে, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—তাহলে জুলাইয়ের আত্মত্যাগের রাজনৈতিক মূল্য কোথায়? যাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, তাদের অতীত যাচাই না করে যদি শুধু ভোট, অর্থ, পেশিশক্তি কিংবা স্থানীয় প্রভাবের হিসাব করা হয়, তাহলে জুলাইয়ের পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তব থাকবে?

আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, ক্ষমতার রাজনীতিতে ‘সবাইকে নিয়ে চলা’ কিংবা ‘ভুলে সামনে এগিয়ে যাওয়া’র মতো সুন্দর শব্দ ব্যবহার করে অনেক সময় জবাবদিহির প্রয়োজনীয়তাকে আড়াল করা হয়। কিন্তু একটি রাষ্ট্র তার অতীত ভুলে গিয়ে সামনে এগোতে পারে না। বরং অতীতকে স্বীকার করে, সত্যকে প্রতিষ্ঠা করে এবং দায় নির্ধারণ করেই সামনে এগোতে হয়।

জুলাইয়ের নিহতদের পরিবার কি জালিমদের ক্ষমা করতে চেয়েছিলো? আহতদের কি বলা হয়েছিলো, কয়েক বছর পর সব ভুলে যেতে হবে? যারা চোখ হারিয়েছেন, পা হারিয়েছেন, শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ হারিয়েছেন, তাদের যন্ত্রণা কি রাজনৈতিক সমঝোতার টেবিলে বসে মুছে ফেলা সম্ভব? যে বাবা তার সন্তানকে কবর দিয়েছেন, যে মা এখনও সন্তানের ছবি বুকে নিয়ে কাঁদেন, তাদের কাছে ক্ষমার অর্থ কী—এ প্রশ্নটি রাজনীতিবিদদের নিজেদের কাছেই করা উচিত।

জুলাইয়ের পর বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় যে প্রত্যাশাটি তৈরি হয়েছিলো, তা হলো—আর কোনও অন্যায় ক্ষমতার কারণে অমীমাংসিত থাকবে না। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হবে। আইন সবার জন্য সমান হবে। অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক, তার বিচার হবে। একই সঙ্গে নিরপরাধ কেউ রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে হয়রানির শিকার হবেন না।

এ ভারসাম্যই হলো ন্যায়বিচারের ভিত্তি।

কিন্তু এখন যদি একদিকে জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার ও জবাবদিহির দাবি থাকে, অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী পুরোনো শক্তির লোকজনকে দলে টেনে নেয়, তাহলে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। মানুষ প্রশ্ন করবে—জুলাই কি তাহলে কেবল ক্ষমতার পালাবদলের একটি সিঁড়ি ছিলো?

এ প্রশ্নের উত্তর রাজনৈতিক দলগুলোকেই দিতে হবে।

কারণ জুলাই কোনও দলের একক সম্পত্তি নয়। জুলাইয়ে যারা রাজপথে ছিলেন, তাদের সবাই কোনও একটি দলের সদস্য ছিলেন না। শিক্ষার্থী, শ্রমিক, সাধারণ মানুষ, বিভিন্ন রাজনৈতিক মতের মানুষ—অনেকেই সেখানে ছিলেন। তাই জুলাইয়ের অর্জনও কোনও একটি দলের একক রাজনৈতিক পুঁজি হতে পারে না।

আর এখানেই ‘ক্ষমার আদর্শ’ নিয়ে সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন।

ক্ষমা করতে হলে আগে অপরাধ স্বীকার করতে হয়। ক্ষমা চাইতে হলে সত্য প্রকাশ করতে হয়। আর পুনর্মিলনের আগে প্রয়োজন ন্যায়বিচার। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক সহিংসতার পর সত্য ও পুনর্মিলন প্রক্রিয়া গড়ে উঠেছে। কিন্তু সেখানে ভুক্তভোগীদের সত্য জানার অধিকার, অপরাধের স্বীকৃতি এবং ভবিষ্যতে একই ঘটনা না ঘটার নিশ্চয়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বাংলাদেশেও তাই প্রয়োজন প্রতিহিংসামুক্ত কিন্তু জবাবদিহিমূলক একটি ব্যবস্থা।

যে কর্মকর্তা অন্যায় করেননি, তাকে শুধু পরিচয়ের কারণে শাস্তি দেয়া যেমন অন্যায়, তেমনি যে কর্মকর্তা অপরাধ করেছেন তাকে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে ছাড় দেয়াও অন্যায়। যে আওয়ামী লীগ নেতা বা কর্মীর বিরুদ্ধে কোনও অপরাধের প্রমাণ নেই, তার নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার আইন অনুযায়ী বিবেচিত হবে। কিন্তু গুরুতর অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত কেউ যদি শুধু নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ার কারণে দায়মুক্তি পেয়ে যান, তাহলে সেটি আইনের শাসনের পরিপন্থী হবে।

এখানে আরেকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—

বিচার এবং রাজনীতি এক জিনিস নয়। রাজনৈতিক দল পরিবর্তন করা কারও ব্যক্তিগত অধিকার হতে পারে, কিন্তু দল পরিবর্তনের সঙ্গে অপরাধের দায় পরিবর্তন হয় না। কেউ একটি দলের হয়ে অপরাধ করলে অন্য দলে যোগ দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই অপরাধ অদৃশ্য হয়ে যায় না।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এ সংস্কৃতির অবসান দরকার।

নইলে আজ যে অপরাধকে রাজনৈতিক সুবিধার জন্য ক্ষমা করা হচ্ছে, আগামী দিনে সে একই সংস্কৃতি অন্য একটি রাজনৈতিক দলের জন্য আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তখন ক্ষমতাসীনরা বলবে, আগের সরকারও তো ক্ষমা করেছে; বিরোধীরা বলবে, তারাও তো দায়মুক্তি দিয়েছে। এভাবেই অপরাধের ধারাবাহিকতা তৈরি হয় এবং রাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হয়।

জুলাইয়ের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হওয়া উচিত—ক্ষমতার কাছে নাগরিকের জীবন তুচ্ছ নয়।

যে তরুণ রাজপথে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, যে শিক্ষার্থী প্রাণ দিয়েছেন, যে শ্রমিক আন্দোলনে গিয়ে আর ঘরে ফেরেননি, যে পরিবার আজও উপার্জনক্ষম সন্তান হারানোর শোক বয়ে বেড়াচ্ছে—তাদের আত্মত্যাগকে রাজনৈতিক সুবিধার হিসাবের সঙ্গে মেলানো যাবে না।

জাতিসংঘের তদন্তও বলছে, জুলাই-আগস্টের ঘটনাগুলো ছিলো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং জবাবদিহি ও সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিবেদনে প্রতিশোধমূলক সহিংসতা ও বিভিন্ন পক্ষের লঙ্ঘনের কথাও উঠে এসেছে। অর্থাৎ ন্যায়বিচার হতে হবে একপেশে নয়, প্রমাণনির্ভর এবং সবার জন্য সমান।

বাংলাদেশ এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে দুটি পথ খোলা। একদিকে রাজনৈতিক সুবিধার জন্য অতীতকে ধুয়ে-মুছে ফেলা, দায়ীদের পুনর্বাসন এবং ক্ষমতার নতুন সমীকরণ তৈরি করা। অন্যদিকে সত্যকে সামনে রেখে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, নিরপরাধকে সুরক্ষা দেয়া এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা।

প্রথম পথটি হয়তো সাময়িক রাজনৈতিক সুবিধা দেবে। কিন্তু দ্বিতীয় পথটিই দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রকে নিরাপদ করবে।

জুলাইকে ভুলে যাওয়া যাবে না। জুলাইকে প্রতিহিংসার হাতিয়ারও বানানো যাবে না। জুলাইকে করতে হবে ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা ও আইনের শাসনের ভিত্তি।

কারণ ইতিহাস ক্ষমা করতে পারে, মানুষও ক্ষমা করতে পারে। কিন্তু রাষ্ট্র যদি অপরাধের সত্যকে চাপা দেয়, তাহলে সে অপরাধ ভবিষ্যতের জন্য আরও বড় বিপদ হয়ে ফিরে আসে।

আজ তাই সবচেয়ে জরুরি প্রশ্ন—

কে কোন দলে গেলেন, কে কাকে ক্ষমা করলেন, কে কাকে নিজের রাজনৈতিক শক্তিতে যুক্ত করলেন—তা নয়। জরুরি প্রশ্ন হলো, জুলাইয়ে যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের প্রতি রাষ্ট্রের দায় কতটা পূরণ হলো?

যদি সেই প্রশ্নের উত্তর অস্পষ্ট থাকে, যদি বিচার অসম্পূর্ণ থাকে, যদি ক্ষমতার প্রয়োজনে অপরাধের স্মৃতি মুছে ফেলা হয়, তাহলে সত্যিই একদিন মনে হতে পারে—ক্ষমার আদর্শে জুলাই ধুয়ে-মুছে যাচ্ছে।

কিন্তু জুলাই ধুয়ে-মুছে যাওয়ার কোনও ঘটনা নয়। এটি বাংলাদেশের মানুষের রক্তে লেখা একটি অধ্যায়। সে অধ্যায় মুছে ফেলার চেষ্টা যতই হোক, ইতিহাসের কাছে তার হিসাব থেকেই যাবে।

লেখক ও সংবাদকর্মী

সম্পর্কিত বিষয়:

শীর্ষ সংবাদ:

ক্ষমার আদর্শের নামে জুলাই ধুয়ে যাওয়ার পথে!
লংমার্চে গ্যাস-বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান হলে আমরাই আগে করতাম: প্রধানমন্ত্রী
পুনর্বহালের সুযোগ নেই ৮,৭৯৬ বিডিআর সদস্যের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
লালমনিরহাট সীমান্তে বিএসএফের গুলি, ৪ নৌকা জব্দ
বিলুপ্ত হলো র‍্যাব, পাস এসআরবি বিল
ভারতে কারাভোগ শেষে দেশে ফিরলো ৪৭ বাংলাদেশি
এনবিআর আন্দোলনে আরও ৩ কর্মকর্তার দণ্ড মওকুফ
প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের শেষকৃত্যে চিন্ময় দাস
বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক: এখনই সময় নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর
চাঁদাবাজির অভিযোগ ১৬ দিনে ১৮ কোটি টাকার
সংসদে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের অভিযোগ রুমিনের
হরমুজে মার্কিন ড্রোন-সাবমেরিন জব্দের দাবি ইরানের
মেসির পর আর্জেন্টিনার নতুন অধিনায়ক রোমেরো
ধাপে ধাপে ঠকছেন মালদ্বীপের প্রবাসীরা: হাসনাত
এক ভিসায় মধ্যপ্রাচ্যের ৬ দেশে ভ্রমণ