সমর্থকরা ক্ষুব্ধ
বাংলাদেশকে ‘নিশ্চিত পেনাল্টি’ দিলেন না রেফারি
বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর ম্যাচের শেষ মুহূর্তে স্পষ্ট পেনাল্টির আবেদন অগ্রাহ্য করলেন ফিলিপাইনের রেফারি ক্লিফফোর্ড দায়ফুয়াট। এতে সমতায় ফেরার বড় সুযোগ হারিয়েছে হাভিয়ের কাবরেরার শিষ্যরা। মাঠে যেমন, তেমনি টিভি পর্দার দর্শকদের চোখেও এটি ছিলো ‘নিশ্চিত পেনাল্টি’।
ম্যাচের যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে বাঁ প্রান্ত দিয়ে দারুণ গতিতে বক্সে ঢুকে পড়েন বাংলাদেশের ফয়সাল আহমেদ ফাহিম। তাকে থামাতে পিছন থেকে স্লাইডিং ট্যাকেল করেন সিঙ্গাপুরের ইরফান নাজিব। বল না ছুঁয়ে পরিষ্কারভাবেই ফাহিমের পায়ে আঘাত করেন নাজিব, ফলে পড়ে যান ফাহিম। কিন্তু রেফারি পেনাল্টির বাঁশি না বাজিয়ে কর্নারের নির্দেশ দেন।
টিভি রিপ্লেতে পরিষ্কার দেখা যায়, এটি ছিলো সিঙ্গাপুর ডিফেন্ডারের ফাউল। রেফারির সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয় স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকেরাও। গোলপোস্টের সামনে থেকে নিশ্চিত সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় হতাশায় মাথা নেড়েছেন কোচ কাবরেরাসহ বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা।
এর আগে দ্বিতীয়ার্ধের ৬৭ মিনিটে রাকিব হোসেনের গোলে ব্যবধান কমায় বাংলাদেশ। এরপর থেকেই একের পর এক আক্রমণে সিঙ্গাপুরের রক্ষণভাগ চাপে পড়ে যায়। বদলি খেলোয়াড় ফাহিম ও আল আমিন মিলে বক্সের মধ্যে বারবার ঢুকে পড়েন। আক্রমণে সক্রিয় ছিলেন ব্রিটিশ-বাংলাদেশি মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরীও।
বাংলাদেশের ধারাবাহিক আক্রমণের মুখে সিঙ্গাপুর রক্ষণভাগ একসময় এলোমেলো হয়ে পড়ে। এ সময়েই ঘটে সে বিতর্কিত ঘটনা। নাজিবের বিপজ্জনক ট্যাকেল বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ এনে দিতে পারতো। সঠিক সিদ্ধান্ত হলে পেনাল্টি থেকে সমতা আনতে পারতো লাল-সবুজরা।
এদিকে শেষ ২০-২৫ মিনিটে একাধিক সহজ সুযোগ পেয়েও সিঙ্গাপুরের জাল কাঁপাতে পারেননি বাংলাদেশের ফরোয়ার্ডরা। বিশেষ করে বাজে ফিনিশিংয়ের খেসারত দিতে হয়েছে। এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে হংকংয়ের বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচের আগে দলকে এ দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে হবে— এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে ম্যাচ হেরে মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশকে। কিন্তু শেষ মুহূর্তের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ঘিরে রেফারির সমালোচনায় মুখর ফুটবলপ্রেমীরা। ম্যাচ শেষে সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সমর্থকেরা— এ ম্যাচে ন্যায্য পেনাল্টি না পাওয়ায় জয় বা অন্তত এক পয়েন্টের সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে গেলো বাংলাদেশের।
সবার দেশ/কেএম




























