এক ম্যাচে ব্যাটিং ও কিপিংয়ে অনন্য কীর্তি
টেস্টে লিটন দাসের বিশ্বরেকর্ড
দুই ইনিংসেই অর্ধশতক, উইকেটের পেছনে ৯ ডিসমিসাল—৬০ বছরের পুরোনো রেকর্ড ছাড়িয়ে ইতিহাস গড়লেন বাংলাদেশের উইকেটকিপার-ব্যাটার।
টেস্ট ক্রিকেটে ব্যাট হাতে ধারাবাহিকতা এবং উইকেটের পেছনে দুর্দান্ত দক্ষতার অনন্য সমন্বয় দেখিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন বাংলাদেশের উইকেটকিপার-ব্যাটার লিটন কুমার দাস। আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবি টেস্টে দুই ইনিংসেই পঞ্চাশোর্ধ্ব রান করার পাশাপাশি উইকেটের পেছনে ৯টি ডিসমিসাল করে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।
টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এক ম্যাচে দুই ইনিংসেই অন্তত ৫০ রান করার পাশাপাশি উইকেটকিপার হিসেবে ৯টি ডিসমিসালের কীর্তি গড়া প্রথম ক্রিকেটার লিটন। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ম্যাচের পঞ্চম ও শেষ দিনে আফগানিস্তানের ইকরাম আলিখিলকে আউট করার মাধ্যমে এ রেকর্ড গড়েন বাংলাদেশের এ তারকা ক্রিকেটার।
ইকরামের ক্যাচ ধরে বিশ্বরেকর্ড
ম্যাচের শেষ দিনে আফগানিস্তানের ইনিংসে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে উইকেটের পেছনে নিজের ক্ষিপ্রতা ও দক্ষতার প্রমাণ দেন লিটন। এবাদত হোসেনের বলে ব্যাট চালাতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ইকরাম আলিখিল। শরীর থেকে বেশ দূরে চলে যাওয়া বলটি দ্রুত ঝাঁপিয়ে পড়ে তালুবন্দি করেন লিটন।
ইকরামের বিদায়ের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানের ৬৬ রানের জুটি ভেঙে যায়। একই সঙ্গে লিটনের নামের পাশে যুক্ত হয় টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে বিরল এক বিশ্বরেকর্ড।
শুধু এ ক্যাচেই নয়, পুরো ম্যাচজুড়েই উইকেটের পেছনে অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়েছেন বাংলাদেশের এ উইকেটরক্ষক। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ক্যাচ নেয়া এবং প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের ফিরিয়ে দিতে তার অবদান বাংলাদেশের বোলারদের সাফল্যেও ভূমিকা রেখেছে।
ভেঙে দিলেন ডেনিস লিন্ডসের রেকর্ড
লিটনের আগে টেস্টের এক ম্যাচে দুই ইনিংসে অন্তত অর্ধশতক করার পাশাপাশি উইকেটকিপার হিসেবে সর্বোচ্চ ৮টি ডিসমিসালের রেকর্ড ছিলো দক্ষিণ আফ্রিকার ডেনিস লিন্ডসের দখলে।
১৯৬৬ সালে জোহানেসবার্গে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এ কীর্তি গড়েছিলেন লিন্ডস। দীর্ঘ সময় ধরে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে টিকে থাকা সে রেকর্ড এবার ছাড়িয়ে গেলেন লিটন।
দুই ইনিংসে ব্যাট হাতে পঞ্চাশোর্ধ্ব রান এবং উইকেটের পেছনে ৯টি ডিসমিসাল—এ দুইয়ের সমন্বয়ে লিটনের অর্জন বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্যও উল্লেখযোগ্য মাইলফলক। এতে প্রমাণিত হয়েছে, একজন উইকেটকিপার-ব্যাটার হিসেবে দলের জন্য দুই বিভাগেই কার্যকর ভূমিকা রাখার সামর্থ্য রয়েছে তার।
প্রথম ইনিংসেও নজরকাড়া কিপিং
চলতি টেস্টের প্রথম ইনিংসেও উইকেটের পেছনে দারুণ দক্ষতা দেখিয়েছিলেন লিটন। প্রথম স্লিপের কাছাকাছি চলে যাওয়া একটি কঠিন ক্যাচ ঝাঁপিয়ে পড়ে ধরেন তিনি। সে ক্যাচেও বোলার ছিলেন এবাদত হোসেন।
দুই ইনিংসেই অসাধারণ কিপিংয়ের পাশাপাশি ব্যাট হাতে রান করে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন লিটন। তার এ পারফরম্যান্স টেস্ট ক্রিকেটে উইকেটকিপার-ব্যাটারদের ভূমিকার গুরুত্বও তুলে ধরেছে।
জয়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশের সামনে আফগানিস্তান
বাংলাদেশের দেওয়া ৪৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ম্যাচের চতুর্থ দিন শেষে আফগানিস্তানের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ১৩২ রান। শেষ দিনে জয়ের জন্য তাদের প্রয়োজন ছিলো আরও ৩৪৭ রান। অন্যদিকে, বাংলাদেশের দরকার ছিলো ৭ উইকেট।
মঙ্গলবার ইকরাম আলিখিলকে ফিরিয়ে আফগানিস্তানের ৬৬ রানের জুটি ভাঙেন এবাদত-লিটন জুটি। ২০২ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় আফগানিস্তান।
দ্বিতীয় ইনিংসে এবাদত হোসেন তিনটি উইকেট নেন, আর হাসান মাহমুদ শিকার করেন একটি উইকেট। বাংলাদেশের বোলারদের সঙ্গে সমন্বয় করে উইকেটের পেছনে লিটনের দক্ষতা ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে নজর কেড়েছে।
ব্যক্তিগত অর্জনের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রাপ্তি
টেস্ট ক্রিকেটে একজন উইকেটকিপারের দায়িত্ব শুধু ক্যাচ নেয়া বা স্টাম্পিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বোলারদের সহায়তা করা, কঠিন পরিস্থিতিতে মনোযোগ ধরে রাখা এবং দলের প্রয়োজনে ব্যাট হাতে অবদান রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আফগানিস্তানের বিপক্ষে লিটনের পারফরম্যান্সে এ তিনটি দিকই ফুটে উঠেছে।
দুই ইনিংসে অর্ধশতক এবং উইকেটের পেছনে ৯টি ডিসমিসালের বিশ্বরেকর্ড লিটনের ক্যারিয়ারে একটি স্মরণীয় অর্জন হয়ে থাকবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত সাফল্যের তালিকায় যুক্ত হলো নতুন এক অধ্যায়।
সবার দেশ/কেএম




























