মাহমুদুলের সেঞ্চুরি ও দুই ফিফটিতে সিলেটে বাংলাদেশের দাপট
ফিরেই রঙ ছড়ালেন মাহমুদুল হাসান জয়। সাত মাস পর টেস্টে নেমেই খেললেন দারুণ এক ইনিংস—ঝলমলে সেঞ্চুরিতে ভাঙলেন দীর্ঘদিনের অপেক্ষা।
ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি তিনি পেয়েছিলেন আজ থেকে প্রায় ৪৩ মাস আগে। এরপর একাধিকবার তিন অঙ্কের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে ব্যর্থ হলেও সিলেটের সবুজ গ্যালারিতে আজ যেন নতুন করে নিজেকে চিনিয়ে দিলেন। আগের সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল ২০২২ সালে ডারবান টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে করা ১৩৭ রান। এবার সেটিও ছাড়িয়ে গেছেন তিনি।
দিনশেষে মাহমুদুল অপরাজিত ১৬৯ রানে। আগামীকাল মাঠে নামবেন ডাবল সেঞ্চুরির লক্ষ্যে। তার সঙ্গী মমিনুল হকও রয়েছেন ব্যক্তিগত মাইলফলকের কাছাকাছি—ক্যারিয়ারের ১৪তম সেঞ্চুরি স্পর্শ করতে আর মাত্র ২০ রান দূরে। বর্তমানে তিনি ৮০ রানে অপরাজিত।
এর আগে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ফিফটি হাঁকিয়ে দলকে এগিয়ে দেন ওপেনার সাদমান ইসলাম। ৯ চার ও ১ ছক্কায় ৮০ রানে আউট হন তিনি—মাত্র ২০ রানের আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়েন। তিন টপ অর্ডার ব্যাটারের ধারাবাহিকতায় সিলেট টেস্টে স্পষ্ট দাপট দেখিয়েছে বাংলাদেশ।
দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৩৩৮ রান। তাতে ৫২ রানের লিড নিয়ে মাঠ ছেড়েছে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
দাপটের শুরুটা আসে ওপেনিং জুটিতেই। সাদমান-মাহমুদুল জুটি গড়ে ১৬৮ রান—যা ২০১৫ সালের পর বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উদ্বোধনী পার্টনারশিপ এবং সবমিলিয়ে চতুর্থ সর্বোচ্চ ওপেনিং জুটি। সাদমান আউট হওয়ার পর দ্বিতীয় উইকেটে আরও এক দারুণ জুটি গড়েন মাহমুদুল ও মমিনুল। দিন শেষে তারা ১৭০ রানের অবিচ্ছিন্ন পার্টনারশিপে অপরাজিত।
দারুণ ফর্মে থাকা মাহমুদুল আয়ারল্যান্ডের জর্ডান নিলের বলে গালি অঞ্চলে চার মেরে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। তার অপরাজিত ১৬৯ রানের ইনিংস সাজানো ১৪টি চার ও ৪টি ছক্কায়। অন্যদিকে মমিনুল হক অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইনকে ডিপ মিডউইকেটে ছক্কা মেরে নিজের ২৩তম ফিফটি স্পর্শ করেন। তিনি ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৮০ রানে অপরাজিত রয়েছেন।
এর আগে সকালে আয়ারল্যান্ড তাদের প্রথম ইনিংসের অবশিষ্ট অংশে মাত্র ১৪ বল টিকে ২৮৬ রানে অলআউট হয়। ৮ উইকেটে ২৭০ রানে দিন শুরু করেছিল তারা। বাকি দুই উইকেট ভাগ করে নেন তাইজুল ইসলাম ও হাসান মাহমুদ। প্রথম ইনিংসের সেরা বোলার ছিলেন অফস্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ। এছাড়া ২টি করে উইকেট নেন হাসান মাহমুদ, তাইজুল ইসলাম ও হাসান মুরাদ। বাকি একটি উইকেট নেন নাহিদ রানা।
সবার দেশ/এফএস




























