ঢাবিতে ১৫ দিনের ছুটি, রোববার সব হল খালি করার নির্দেশ
রাজধানীতে ধারাবাহিক ভূমিকম্পের পর ঢাকার অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ ভবনসমূহের মধ্যে বিবেচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আবাসিক হলগুলোকে ‘জরুরি কারিগরি পর্যবেক্ষণ’র আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে আজ রোববার (২৩ নভেম্বর) বিকেল ৫টার মধ্যেই সব আবাসিক শিক্ষার্থীকে হল খালি করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় পরবর্তী ১৫ দিন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
শনিবার (২২ নভেম্বর) ঢাবির প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমেদ সাংবাদিকদের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। ভূমিকম্পের পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হওয়া আতঙ্ক, কিছু হলের দৃশ্যমান ফাটল এবং পুরোনো ভবনগুলোর সামগ্রিক নিরাপত্তা বিবেচনায় এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
ভূমিকম্পের পর আতঙ্ক, জরুরি মেরামতের প্রয়োজন
প্রক্টর বলেন, যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি আতঙ্ক বিরাজ করছে। বহু হল বহুদিনের পুরোনো। এদের গঠনগত শক্তি নিশ্চিত করতে প্রতিটি ভবন ক্ষয়ক্ষতি পর্যবেক্ষণ ও মেরামত প্রয়োজন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশলীদের মতে—সম্পূর্ণ কারিগরি পর্যবেক্ষণে চার সপ্তাহ সময় লাগবে। তবে জরুরি অবস্থা বিবেচনায় সিন্ডিকেট দুই সপ্তাহ সময় দিয়েছে
তিনি আরও জানান, এ দুই সপ্তাহ রক্ষণাবেক্ষণ ও জরুরি শক্তিবৃদ্ধির কাজ চলবে। এজন্য হলগুলো খালি রাখা অপরিহার্য। তাই রোববার বিকেল ৫টার মধ্যেই শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
হল ছাড়ার আগে চাবি জমা
হল খালি করার প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রক্টর বলেন, হল ছাড়ার সময় শিক্ষার্থীদের রুম পর্যবেক্ষণ করতে হবে। এজন্য রুমগুলোর চাবি সংশ্লিষ্ট হাউজ টিউটরদের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে। পর্যবেক্ষণ শেষে প্রয়োজনীয় সংস্কার-কার্যক্রম শেষে হল পুনরায় খোলা হবে।
ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ
ঢাবি প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে, আগামী দুই সপ্তাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত থাকবে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রকৌশলীদের অগ্রগতি অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
প্রেক্ষাপট
শুক্রবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ৫.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঢাবির একাধিক হলে দেয়ালে ফাটল, প্লাস্টার ঝরে পড়া এবং শিক্ষার্থীদের লাফিয়ে নামার ঘটনায় কয়েকজন আহত হন। নাটকীয় এ পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে যান আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা। শিক্ষার্থীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় হলগুলোর ঝুঁকি নিয়ে সরব হন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতিকে ‘জরুরি ও সংবেদনশীল’ বলে অভিহিত করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়।
শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া
অপরিকল্পিত অবকাঠামো ও দীর্ঘদিনের রক্ষণাবেক্ষণের অভাব নিয়েই শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। অনেকেই বলছেন, ভূমিকম্প না হলে হয়তো এ ধরনের পরীক্ষার উদ্যোগ আসত না। অন্যদিকে, তাৎক্ষণিক হল ছাড়ার নির্দেশনায় শিক্ষার্থীদের অনেকেই ভোগান্তির শঙ্কা প্রকাশ করেছেন—বিশেষত দূর-দূরান্ত থেকে আগত শিক্ষার্থীরা।
প্রশাসনের অনুরোধ
ঢাবি প্রশাসন শিক্ষার্থীদের শান্ত থেকে নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানিয়েছে এবং জানিয়েছে যে, নিরাপত্তাই এখন তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
পরিস্থিতি মূল্যায়ন ও পরবর্তী সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া এবং ওয়েবসাইটে জানানো হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























