নুসরাত তাবাসসুমের প্রার্থিতা ফিরলো হাইকোর্টের নির্দেশে
নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার কারণে বাতিল হওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী নুসরাত তাবাসসুমের প্রার্থিতা নতুন মোড় নিয়েছে আদালতের নির্দেশে। হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) তার মনোনয়নপত্র গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন, ফলে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে অংশ নেয়ার পথ আবারও উন্মুক্ত হলো তার জন্য।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে নুসরাত তাবাসসুমের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন লিপু, অ্যাডভোকেট মো. মনিরুজ্জামান ও অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা।
এর আগে প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন নুসরাত তাবাসসুম। রিটের শুনানি শেষে আদালত এ নির্দেশনা দেন, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
ঘটনার সূত্রপাত ২২ এপ্রিল। ওইদিন ছিলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বিকেল ৪টার মধ্যে মনোনয়ন জমা দেয়ার কথা থাকলেও, নুসরাত তাবাসসুম তার কাগজপত্র জমা দেন বিকেল ৪টা ১৯ মিনিটে। সময়সীমা অতিক্রম করায় নির্বাচন কমিশন তার মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেয়।
এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নামেন তিনি এবং শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টের নির্দেশে তার প্রার্থিতা পুনর্বহালের পথ তৈরি হলো।
উল্লেখ্য, একই নির্বাচনে এনসিপির আরেক নেত্রী ও যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের মনোনয়নও এর আগে স্থগিত করেছিলো নির্বাচন কমিশন, যা দলটির জন্য একটি চাপের পরিস্থিতি তৈরি করে।
আগামী ১২ মে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনকে ঘিরে এমন আইনি পাল্টাপাল্টি সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে সময়সীমা অতিক্রমের মতো স্পষ্ট বিধি লঙ্ঘনের পরও আদালতের হস্তক্ষেপে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়া—নির্বাচনী বিধি ও বিচারিক ব্যাখ্যার সীমারেখা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে বিশ্লেষকদের মধ্যে।
সবার দেশ/কেএম




























