উত্তপ্ত বাক্যযুদ্ধে সরকার–বিরোধী শিবির
জুলাই সনদকে ‘আননেসেসারি’ বলায় সংসদে উত্তেজনা
রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় ‘জুলাই সনদ’কে ঘিরে জাতীয় সংসদে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র উত্তেজনা। ক্ষমতাসীন ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে অধিবেশন একাধিকবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
বিতর্কের সূচনা হয় বিএনপির সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল করিম-এর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। তিনি বলেন, সংসদের শুরু থেকেই একটি ‘আননেসেসারি’ জুলাই সনদ নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক তৈরি করা হয়েছে। তার এ মন্তব্যে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানান নুরুল ইসলাম। পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে, সে প্রেক্ষাপটকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের হুইপ রকিবুল ইসলাম বলেন, দেশের শিক্ষার্থীরা আর ‘গুপ্ত রাজনীতি’ দেখতে চায় না। তার ভাষায়, ক্যাম্পাসে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা হলে তা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য ক্ষতিকর হবে। তিনি উন্মুক্ত রাজনৈতিক চর্চার পক্ষে মত দেন এবং বলেন, যেকোনও রাজনৈতিক রূপরেখা সবার মতামতের ভিত্তিতে হওয়া উচিত।
অন্যদিকে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মিলিত ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ছাত্রদের নেতৃত্বে শুরু হলেও আন্দোলনটি পরে সব দলের সমর্থন পায়। সে প্রেক্ষাপটে জুলাই শহীদদের নিয়ে বিতর্ককে তিনি ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ বলে মন্তব্য করেন। পাশাপাশি তিনি জানান, জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতেই সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিলো।
এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, দেশের রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কার করে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা জরুরি। তার মতে, অতীতে রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতরে ফ্যাসিবাদের উপাদান থাকায় কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়নি। তিনি সতর্ক করে বলেন, দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর যেকোনও হুমকি মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফা বলেন, জনগণ কোনও ‘ফ্যাসিস্ট’ বা তার সহযোগীদের ধন্যবাদ জানানোর জন্য ভোট দেয়নি। বিএনপির অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, জুলাই সনদের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো বাদ দেয়া হয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে না।
একই দলের আরেক সদস্য আতাউর রহমান রাষ্ট্রপতির সমালোচনা করে বলেন, তার বক্তব্যে আন্তরিকতা নেই। তিনি বিতর্কিত মন্তব্য করে বলেন, রাষ্ট্রপতির ‘মেরুদণ্ড হয় শক্ত, নয় বাঁকা হয়ে গেছে’—যা সংসদে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করে।
গণভোটের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন জামায়াতের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবদীন। তিনি বলেন, ৭০ শতাংশ সমর্থনকে উপেক্ষা করে ৫১ শতাংশের যুক্তি সামনে আনা হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক ব্যাখ্যার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদ সদস্যদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের সৌন্দর্যই হলো মতভিন্নতা এবং সবাইকে নিজ নিজ মতামত প্রকাশের সুযোগ দিতে হবে।
পরে মাগরিবের নামাজের জন্য অধিবেশনে বিরতি দেয়া হয়। বিরতির পর চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম জানান, মঞ্জুরুল করিম তার বক্তব্যে ‘অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক’ বোঝাতে চেয়েছিলেন। প্রয়োজনে মন্তব্যটি কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেয়ার কথাও বলা হয়েছে। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।
সবার দেশ/কেএম




























