বিদ্যুতে লোপাট: ক্যাপাসিটি চার্জে ২.৯ লাখ কোটি টাকা
২০০৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিদ্যুৎ খাতে অনিয়ম ও অস্বাভাবিক চুক্তির কারণে শুধু ক্যাপাসিটি চার্জ হিসেবেই রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে ২ লাখ ৮৯ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তার মতে, এ অর্থের পরিমাণ অত্যন্ত অস্বাভাবিক ও অন্যায্য।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে বিদ্যুৎ খাতের এসব তথ্য তুলে ধরেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী। বৈঠক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
ব্রিফিংয়ে দেশের জ্বালানি খাতের বর্তমান কাঠামোগত দুর্বলতা ও ভঙ্গুরতার জন্য সরাসরি বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ও শেখ হাসিনার নীতিকে দায়ী করেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, বিগত সরকারের ভুল নীতি, সিদ্ধান্তহীনতা এবং দূরদর্শিতার চরম অভাবের কারণেই বর্তমান সংকটজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০’ ব্যবহার করে তৎকালীন সরকার কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীকে অনৈতিক ও অপ্রয়োজনীয় বিশেষ সুবিধা দিয়েছিলো। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।
তিনি জানান, বিদ্যুৎ খাতে অতীতের চুক্তিগুলো পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে বিদ্যুৎ বিক্রয় চুক্তি বা পিএএ পুনর্মূল্যায়ন করে ১৯টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ট্যারিফ বা বিদ্যুতের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। এতে ভবিষ্যতে সরকারের বিদ্যুৎ ক্রয় বাবদ ব্যয় কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে আরও ৫১টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে ট্যারিফ কমানোর বিষয়ে চূড়ান্ত দরকষাকষি চলছে বলে জানান বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী। এসব আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যুৎ খাতে সরকারের আর্থিক বোঝা আরও কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর্যায়ে এসে ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধের বিষয়েও নতুন নীতি নেয়ার কথা জানান তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ক্ষেত্রে ‘নো ইলেকট্রিসিটি, নো পেমেন্ট’ নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। অর্থাৎ কোনও বিদ্যুৎকেন্দ্র বিদ্যুৎ উৎপাদন না করে অলস অবস্থায় থাকলে সে কেন্দ্রকে ক্যাপাসিটি চার্জ দেয়া হবে না।
বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ খাতে অতীতের চুক্তি ও নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তা কমাতে সরকার চুক্তিগুলো পুনর্মূল্যায়ন, ট্যারিফ কমানো এবং ক্যাপাসিটি চার্জের ক্ষেত্রে কঠোর নীতি গ্রহণ করছে।
সবার দেশ/কেএম




























