তিতাসে নতুন দুই কূপ, দৈনিক মিলবে ৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস
১০ বছরে গ্যাসের সম্ভাব্য বাজারমূল্য সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা, দেড় বছরের মধ্যে উৎপাদনে যাওয়ার আশা।
দেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা পূরণ এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়াতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে নতুন দুটি কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কূপ দুটি থেকে দৈনিক প্রায় ৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে আগামী ১০ বছরে উত্তোলিত গ্যাসের সম্ভাব্য বাজারমূল্য দাঁড়াবে প্রায় ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হয়। সভায় মোট ১৪টি এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা হয়।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে দুটি নতুন কূপ খননের প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল)। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো দেশের নিজস্ব গ্যাসের উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা।
প্রকল্প পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম বছরে একটি কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলন শুরু হতে পারে। আর প্রকল্পের কাজ এগিয়ে গেলে দেড় বছরের মধ্যে দ্বিতীয় কূপ থেকেও উৎপাদন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দুটি কূপ পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে গেলে প্রতিদিন প্রায় ৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।
পরিকল্পনা কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, দৈনিক ৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন অব্যাহত থাকলে আগামী ১০ বছরে মোট ১০ হাজার ৭৪ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া সম্ভব হবে। এসব গ্যাসের সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা। ফলে উৎপাদন ব্যয় ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্পটি দেশের জ্বালানি খাতে অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
শুধু প্রাকৃতিক গ্যাস নয়, নতুন কূপ দুটি থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কনডেনসেট বা তরল পেট্রোলিয়াম পাওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ৬০ হাজার ব্যারেলের বেশি কনডেনসেট উত্তোলনের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এটি দেশের জ্বালানি সম্পদের ব্যবহার ও অর্থনৈতিক মূল্য সংযোজনের ক্ষেত্রে বাড়তি সম্ভাবনা তৈরি করবে।
প্রকল্পের প্রকৌশলসংক্রান্ত বিভিন্ন কাজ, কূপ খননের প্রস্তুতি এবং রিগ ফাউন্ডেশন নির্মাণে তৃতীয় পক্ষের সহায়তা নেয়া হবে। এ ক্ষেত্রে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও পরামর্শকেরাও যুক্ত থাকবেন। আধুনিক প্রযুক্তি ও কারিগরি দক্ষতা কাজে লাগিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কূপ দুটি খনন ও উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে, একনেক সভায় রাজধানীর সরকারি আবাসন অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা সেনানিবাসের মঈনুল রোডে সেনা কর্মকর্তাদের জন্য আবাসন এবং রাজধানীর ঝিগাতলায় সরকারি কর্মচারীদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্য ওঠানামা এবং দেশের গ্যাসের ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষাপটে নিজস্ব গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন বাড়ানো সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন কূপ খননের পাশাপাশি পুরোনো কূপগুলোর উৎপাদনক্ষমতা ধরে রাখা এবং নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে জোর দেওয়া গেলে আমদানিনির্ভরতা কমানোর ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি সম্ভব।
সবার দেশ/এমকেজে




























