ফসল ও মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষতি
পাহাড়ি ঢলে বাঁধ ভেঙে ১৫ গ্রাম প্লাবিত
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় মুষলধারে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে গোগালীছড়া নদীর বাঁধ ভেঙে অন্তত ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও মাছের ঘেরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাতে টানা ভারী বৃষ্টিপাতের সঙ্গে পাহাড়ি ঢল নেমে আসে। এতে উপজেলার গোগালীছড়া নদীর প্রায় ১৫০ ফুট অংশের বাঁধ ভেঙে যায়। মুহূর্তেই পানি ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের গ্রামগুলোতে।
বন্যায় কুলাউড়া উপজেলার সদর ইউনিয়ন ও জয়চন্ডী ইউনিয়নের অন্তত ১৫টির বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিতে তলিয়ে যাওয়া গ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে বাগাজুরা, হাসনপুর, শ্রীপুর, করেরগ্রাম, মিনারমহল, সৈয়দপুর, গাজিপুর, পুরন্দপুর, হরিপুর, বড়কাপন এবং দানাপুর, কামারকান্দি ও লামাগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০০ বিঘার বেশি আউশ ও বোরো ধান, আউশের বীজতলা এবং শতাধিক ফিশারি পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে কৃষক ও মৎস্যচাষিদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সদর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নাদিম মাহমুদ রাজু জানান, শুধু গাজিপুর গ্রামেই প্রায় ২০ বিঘা বোরো ধান নষ্ট হয়েছে।
অন্যদিকে জয়চন্ডী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুশ শহীদ বলেন, মৎস্য খামার ও ঘেরগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে।
বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনে যান কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে ১০ থেকে ১৫টি গ্রাম পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং মানুষ চরম দুর্ভোগে আছে।
তিনি আরও জানান, ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, দ্রুত বাঁধ মেরামত ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে।
সবার দেশ/কেএম




























