দুই বছরের ব্যবধানে প্রিজন ভ্যানের সামনে একই সাহসের প্রতিচ্ছবি
ঢাকার নুসরাত, মুম্বাইয়ের রিয়া—দুই দেশের রাজপথে প্রতিবাদের প্রতীক
ভৌগোলিক সীমান্ত, রাজনৈতিক বাস্তবতা ও সময়ের ব্যবধান আলাদা হলেও প্রতিবাদের ভাষা যে এক হতে পারে, তারই প্রতীক হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের নুসরাত জাহান এবং ভারতের রিয়া আহির। দুই বছরের ব্যবধানে দুই দেশের রাজপথে প্রিজন ভ্যানের সামনে দাঁড়িয়ে সাহসিকতার যে দৃশ্য তারা উপহার দিয়েছেন, তা সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম পর্যন্ত ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার রাজপথে প্রিজন ভ্যানের সামনে দাঁড়িয়ে আলোচনায় আসেন নুসরাত জাহান। ঠিক দুই বছর পর, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ভারতের মুম্বাইয়ে একই ধরনের প্রতিবাদী অবস্থান নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন রিয়া আহির।
২০২৪ সালের ৩১ জুলাই রাজধানীর হাইকোর্ট মাজার গেট এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি চলাকালে কয়েকজন আন্দোলনকারীকে আটক করে পুলিশ। সে সময় একটি প্রিজন ভ্যানের সামনে একাই দাঁড়িয়ে যান নুসরাত জাহান। পুলিশি অভিযানের মধ্যেও তার নির্ভীক অবস্থান ক্যামেরাবন্দী হয় এবং মুহূর্তেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ছবিটি জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রতীকী আলোকচিত্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া, হিন্দুস্তান টাইমস এবং বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে মুম্বাইয়ে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে আয়োজিত এক বিক্ষোভে কয়েকজন আন্দোলনকারীকে আটক করতে গেলে পুলিশের একটি ভ্যানের সামনে দাঁড়িয়ে যান রিয়া আহির।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক হওয়া আন্দোলনকারীদের নিয়ে পুলিশ ভ্যান এগিয়ে যাওয়ার সময় রিয়া নির্ভীকভাবে ভ্যানটির সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। সে মুহূর্তের ভিডিও ও স্থিরচিত্র দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে পড়ে। পরে ভারতের বিভিন্ন জাতীয় সংবাদমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোও ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করে।
দুই দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, আন্দোলনের উদ্দেশ্য এবং সময়কাল ভিন্ন হলেও নুসরাত জাহান ও রিয়া আহিরের প্রতিবাদের দৃশ্যগত মিল অনেকের দৃষ্টি কেড়েছে। প্রিজন ভ্যানের সামনে একা দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রীয় শক্তির মুখোমুখি হওয়ার প্রতীকী এ অবস্থানকে অনেকে সাহস, প্রতিরোধ ও নাগরিক প্রতিবাদের শক্তিশালী বার্তা হিসেবে দেখছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায়ও দুই তরুণীর ছবিকে পাশাপাশি রেখে তুলনা করছেন বহু ব্যবহারকারী। অনেকেই বলছেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা, সাহস এবং প্রতীক সময় ও দেশের গণ্ডি পেরিয়ে একই রকম শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।
সবার দেশ/কেএম




























