ট্রাইব্যুনালে ভয়াবহ অভিযোগ সাক্ষীর
‘এরা গুলিতে মরেনি, ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলুন’
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উঠে এসেছে ভয়াবহ এক অভিযোগ। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের হত্যা করতে চিকিৎসকদের চাপ দেয়া হয়েছিলো বলে দাবি করেছেন মামলার এক সাক্ষী।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ দেয়া জবানবন্দিতে প্রসিকিউশনের ষষ্ঠ সাক্ষী মো. রুহুল আমিন দাবি করেন, আওয়ামী লীগের লোকজন হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকদের উদ্দেশে বলেছিলেন—
এদের গুলি করা হয়েছে মরেনি, ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলুন।
রামপুরায় ২৮ জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
রুহুল আমিন রাজধানীর রামপুরার মেরাদিয়া এলাকার একটি বাড়ির কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করেন। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই দুপুরে ছাত্র-আন্দোলনের পরিস্থিতি দেখতে রামপুরা থানার পাশের মেরাদিয়া কাঁচাবাজার এলাকায় যান তিনি। সেখানে গিয়ে দেখেন, বিজিবি, পুলিশ এবং আওয়ামী লীগের লোকজন একসঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালাচ্ছে।
তিনি বলেন, গুলিতে ঘটনাস্থলেই কয়েকজন মারা যান এবং অনেকে আহত হন। চারদিকে রক্তাক্ত মানুষ পড়ে থাকতে দেখে আতঙ্কিত হয়ে বাসার দিকে রওনা দেন তিনি। এ সময় পেছন দিক থেকে ছোড়া একটি গুলি তার কোমরের নিচে লাগে এবং শরীর ভেদ করে বেরিয়ে যায়।
ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেয়ার সময় নিজের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ক্ষতস্থানও দেখান রুহুল আমিন।
সাক্ষী আরও জানান, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাকে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হলেও পরদিন রাতে তাকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়া হয়।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় হাসপাতালে গিয়ে আওয়ামী লীগের লোকজন চিকিৎসকদের ভয়ভীতি দেখান। তারা আহতদের উদ্দেশে বলেন, গুলি করেও এরা মরেনি, ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলুন।
রুহুল আমিন দাবি করেন, এ ঘটনার পর হাসপাতাল থেকে তাকে কোনও চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্রও দেয়া হয়নি। পরে বাসায় ফিরে গেলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা তাকে এলাকা ছাড়ার হুমকি দেন। তাকে বলা হয়,
তুমি গুলি খেয়েছো, এ এলাকায় থাকতে পারবে না।
তবে এলাকার নির্দলীয় এক ব্যক্তি তাকে আশ্রয় ও সাহস দেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পরবর্তীতে নিজের খরচে ফরাজি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন বলে জানান এ সাক্ষী।
জবানবন্দিতে নিজের গুলিবিদ্ধ হওয়ার জন্য বিজিবির রেদোয়ান, রাফাত, পুলিশের রাশেদ এবং রামপুরা থানার সাবেক ওসি মশিউর রহমানকে দায়ী করেন রুহুল আমিন। বর্তমানে শারীরিক অবস্থার কারণে তিনি কোনও কাজ করতে পারছেন না বলেও ট্রাইব্যুনালকে জানান।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে জড়িতদের বিচার দাবি করে তিনি বলেন, আমি এখনও স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারি না। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের বিচার চাই।
মামলায় মোট চারজন আসামি রয়েছেন। এর মধ্যে গ্রেফতার হয়ে ঢাকার সেনানিবাসের সাব-জেলে আছেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলাম ও মেজর মো. রাফাত বিন আলম। পলাতক রয়েছেন ডিএমপির খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. রাশেদুল ইসলাম ও রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান।
সবার দেশ/কেএম




























