প্রধানমন্ত্রীর সামনে আবেগঘন বক্তব্য ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজির
‘১৮ বছর বঞ্চিত থেকেও জাতীয়তাবাদী আদর্শ বদলাইনি’
ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক বলেছেন, দীর্ঘ চাকরি জীবনে নানা বঞ্চনা, বৈষম্য ও মানসিক নির্যাতনের মুখোমুখি হলেও তিনি জাতীয়তাবাদী আদর্শ থেকে কখনো বিচ্যুত হননি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রায় ১৮ বছর ধরে পদোন্নতি ও পেশাগত সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
সোমবার (১১ মে) পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আবেগঘন বক্তব্য দেন তিনি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্রসচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, প্রায় ২৯ বছরের চাকরি জীবনে এ প্রথম প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আসার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। দীর্ঘ বঞ্চনা, অপমান ও অপেক্ষার ইতিহাসের পর এ মুহূর্তটি তার জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, জাতীয়তাবাদী আদর্শের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণেই চাকরির শুরুতে মাত্র ১৭ মাসের মাথায় তৎকালীন সরকার তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়। সে সময় সামাজিকভাবে যেমন চাপে পড়তে হয়েছিলো, তেমনি আত্মীয়-স্বজন ও নিজের পরিবারের কাছেও নিজেকে অসহায় মনে হতো।
ডিআইজি আরও জানান, পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সরাসরি হস্তক্ষেপে তিনি পুনরায় চাকরিতে ফিরতে সক্ষম হন। এ জন্য তিনি খালেদা জিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী শক্তি নতুন করে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে এবং দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নতুন গতি এসেছে।
ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ ও প্রতিকূলতার মধ্যদিয়ে বর্তমান নেতৃত্ব দেশের মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে দেশের প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও গণমুখী ও পেশাদার হয়ে উঠবে।
বক্তব্যের শেষদিকে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সামনে দাঁড়িয়ে দীর্ঘদিনের জমে থাকা স্মৃতিগুলো প্রকাশ করতে পেরে তিনি স্বস্তি অনুভব করছেন। একই সঙ্গে নিজের ভুল-ত্রুটির জন্য ক্ষমাও প্রার্থনা করেন তিনি।
সবার দেশ/কেএম




























