ভিআইপি-সিআইপির জন্যও একই প্রটোকল
দেশের সব বিমানবন্দরে কড়া নিরাপত্তার নির্দেশ
আসন্ন আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) নিরাপত্তা অডিটকে সামনে রেখে দেশের সব বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে ভিআইপি, সিআইপি ও সাধারণ যাত্রী—সবার জন্য অভিন্ন নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া বিমানবন্দর এলাকায় অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়ন ঠেকাতে অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম স্থাপনের উদ্যোগ নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদর দফতরে পুনর্গঠিত জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটির (এনসিএএসসি) প্রথম সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খান। উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাতসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা।
সভায় মন্ত্রী আফরোজা খান বলেন, আইসিএওর নিরাপত্তা অডিটের ফলাফল দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই অডিটকে সামনে রেখে সম্ভাব্য সব পর্যবেক্ষণের বিষয়ে আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ভিআইপি, সিআইপি কিংবা সাধারণ যাত্রী—কারও জন্য আলাদা কোনও সুবিধা বা ছাড় থাকবে না। সবার ক্ষেত্রে একই ধরনের নিরাপত্তা প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
এ সময় প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিমানবন্দরে উন্নত ও নির্বিঘ্ন সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশও দেন তিনি।
সভায় প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, বিমানবন্দর এলাকার আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখতে অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা সরঞ্জাম, স্ক্যানার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
প্রায় তিন বছর পর অনুষ্ঠিত জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটির এ সভায় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময় ও সমন্বয় জোরদার, আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি সংযোজন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবেশপথে নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ও নিয়মিত নজরদারি আরও বাড়ানো হবে, যাতে আইসিএওর নিরাপত্তা অডিট সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।
সবার দেশ/কেএম




























