Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০০:৪৫, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ০০:৪৫, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিরোধীদলীয় নেতাকে দেড়শ টাকার ভোজের নিমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর

বিরোধীদলীয় নেতাকে দেড়শ টাকার ভোজের নিমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে সাধারণ আলোচনার সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের মধ্যে তৈরি হয়েছে এক প্রাণবন্ত ও আন্তরিক মুহূর্ত। প্রধানমন্ত্রীর সাদামাটা জীবনযাপন এবং মাত্র ১০০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে দুপুরের খাবার খাওয়ার প্রশংসা করায় বিরোধীদলীয় নেতাকে সরাসরি মধ্যাহ্নভোজের নিমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ৬৮ বিধির সাধারণ আলোচনা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।

‘তীব্র জ্বালানি ও গ্যাস-সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে বেকারত্ব সৃষ্টি এবং দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে মারাত্মক বিপর্যয় রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ’ বিষয়ে আলোচনার একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর জীবনযাপনের প্রসঙ্গ তোলেন বিরোধীদলীয় নেতা।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, 

আমরা উৎসাহিত হই, যখন দেখি প্রধানমন্ত্রীর লাঞ্চের খরচ ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। আমার ভালো লাগে। এত কম টাকায় আমিও খেতে পারি না।

তার এ মন্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হাতের ইশারায় বিরোধীদলীয় নেতাকে বলেন, আসুন, খাওয়াবো।

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও মাইক ছাড়াই বলেন, আপনাকে খাওয়ানো হবে। পরে তিনিও প্রধানমন্ত্রীর দিকে ইশারা করেন। বিরোধীদলীয় নেতা জানান, তিনি একা খেতে চান না; ১৮ কোটি মানুষ নিয়ে খেতে চান। 

প্রধানমন্ত্রীর এমন আমন্ত্রণের জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা তাকে ধন্যবাদ জানান। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সাদামাটা জীবনযাপনের প্রশংসা করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী সাধারণ জীবনযাপন করেন—এটি সুন্দর বিষয়। তিনি ‘পশ, স্যুটে-বুটে’ চলেন না এবং প্লেনে সাধারণভাবে চলাচল করেন। তার মতে, প্রধানমন্ত্রীর এমন জীবনযাপন উৎসাহিত হওয়ার মতো।

তবে একই সঙ্গে যারা প্রধানমন্ত্রীকে নিজেদের ‘আইকন’ বলে প্রশংসা করেন, তাদের জীবনযাপনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এ সরলতার মিল নেই বলেও মন্তব্য করেন শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যদি এসব মানুষের আইকন হয়ে থাকেন, তাহলে তাকে অনুসরণ করা উচিত। শুধু কথায় আইকন বললেই হবে না, তার জীবনযাপন ও আদর্শও অনুসরণ করতে হবে। কিন্তু বাস্তবে এর বিপরীত চিত্র দেখা যায়।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আইকন বলার আগে সাবধান হয়ে বলবেন। আর আইকন বললে তাকে ফলো করতে হবে।

আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীকে নিয়েও ভারসাম্যপূর্ণ সমালোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীও একজন মানুষ, তাই তিনি ভুলের ঊর্ধ্বে নন। তার সবকিছুর সঙ্গে একমত হয়ে ‘হ্যাঁ’ বলা যাবে না।

তবে শিশুদের দাবির প্রসঙ্গে ভিন্ন মন্তব্য করে তিনি বলেন, শিশুদের কথা শুনলে সেখানে ‘হ্যাঁ’ বলা যেতে পারে। তারা যা বলবে, তাতে সম্মতি দেয়া যায়।

জ্বালানি ও গ্যাস-সংকটের মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যু নিয়ে সংসদে চলা গুরুতর আলোচনার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর দুপুরের খাবারের খরচ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতার প্রশংসা এবং পাল্টা নিমন্ত্রণের এ ঘটনা অধিবেশনে কিছুটা হাস্যরস ও আন্তরিকতার পরিবেশ তৈরি করে।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ: