Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০০:০৫, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রধান বিচারপতির এজলাস ত্যাগ প্রসঙ্গ

খোকনের ওই আচরণ সঠিক ছিলো না: আইনমন্ত্রী

খোকনের ওই আচরণ সঠিক ছিলো না: আইনমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের অনাকাঙ্ক্ষিত বাকবিতণ্ডা এবং এর জেরে প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের সব বিচারপতির এজলাস ত্যাগের বিষয়টি জাতীয় সংসদে উঠেছে। এ ঘটনায় খোকনের আচরণ সঠিক ছিলো না বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের পয়েন্ট অব অর্ডারে বিষয়টি উত্থাপন করেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় দলের মুখপাত্র নাজিবুর রহমান। পরে তার বক্তব্যের জবাবে আইনমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

নাজিবুর রহমান বলেন, জনগণের ন্যায়বিচার পাওয়ার সর্বশেষ আশ্রয়স্থল বিচার বিভাগে এ ধরনের ঘটনা সাধারণ মানুষের কাছে কী বার্তা দিচ্ছে, তা ভেবে দেখা প্রয়োজন। অতীতে ফ্যাসিবাদী আমলে প্রধান বিচারপতিকে অস্ত্রের মুখে পদত্যাগে বাধ্য করার যে ঘটনা ঘটেছিলো, বর্তমান ঘটনাটি সে ধরনের কোনও বার্তা দিচ্ছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার।

তিনি এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করেন।

জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ঘটনাটি সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে ঘটেছে এবং এটি রাষ্ট্রের কোনও অঙ্গের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয় নয়। তবে এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে কেউ ঘটাবেন না—এটাই তিনি প্রত্যাশা করেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, আমাদের সম্মানিত সংসদ সদস্য, সুপ্রিম কোর্ট বারের প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের সঙ্গে প্রধান বিচারপতির একটি বাদানুবাদের ঘটনা ঘটে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি এবং আপিল বিভাগের সব বিচারপতি এজলাস ত্যাগ করেন। মঙ্গলবার তারা আর আদালতে ফিরে আসেননি।

এর আগে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে একটি মামলায় আইনজীবীর ওপর জরিমানার আদেশকে কেন্দ্র করে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি মাহবুব উদ্দিন খোকনের মধ্যে কথোপকথনের একপর্যায়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের সব বিচারপতি এজলাস ছেড়ে চলে যান।

সংসদে বক্তব্য দেয়ার সময় ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন বলেও জানান নাজিবুর রহমান। তিনি বলেন, মূল ঘটনা ঘটার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

নাজিবুর রহমানের ভাষ্য, একজন আইনজীবী বারবার সত্য গোপন করে রিট করার কারণে আদালত তাকে পেনাল্টি হিসেবে জরিমানা করেন। ওই জরিমানার আদেশকে কেন্দ্র করেই ঘটনার সূত্রপাত হয়।

তিনি বলেন, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন শুধু একজন আইনজীবী নন, তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি। একই সঙ্গে তিনি জাতীয় সংসদের একজন সদস্য এবং সরকারি দলের একজন প্রভাবশালী নেতা। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে যখন আলোচনা হচ্ছে, তখন জনগণের ন্যায়বিচারের সর্বশেষ আশ্রয়স্থল আদালতে এমন ঘটনা কী বার্তা দিচ্ছে, তা নিয়ে চিন্তা করা প্রয়োজন।

অতীতের একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে নাজিবুর রহমান বলেন, ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায়। ফ্যাসিবাদী আমলে প্রধান বিচারপতিকে অস্ত্রের মুখে পদত্যাগে বাধ্য করার ঘটনা ঘটেছিলো উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান ঘটনাটি সে ধরনের কোনও বার্তা দিচ্ছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা উচিত।

আইনমন্ত্রীও খোকনের আচরণকে সঠিক মনে করেননি। তবে তিনি ঘটনাটিকে রাষ্ট্রের কোনও অঙ্গের সঙ্গে সংঘটিত ঘটনা হিসেবে না দেখে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

হরমুজে মার্কিন ড্রোন-সাবমেরিন জব্দের দাবি ইরানের
মেসির পর আর্জেন্টিনার নতুন অধিনায়ক রোমেরো
ধাপে ধাপে ঠকছেন মালদ্বীপের প্রবাসীরা: হাসনাত
এক ভিসায় মধ্যপ্রাচ্যের ৬ দেশে ভ্রমণ
মেট্রোরেলের ৪৬ পিলারে ফাটল, ২৭ বিয়ারিং প্যাড ঝুঁকিপূর্ণ: সংসদে সড়কমন্ত্রী
রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে আগুন, তদন্তে কমিটি
সরকারও আশির দশকে ফিরতে চাইছে: নাহিদ
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে তিন দিনে ১০৪০ কোটি টাকা ফেরত
ইসরায়েলকে চাপে রাখতে ঐক্যবদ্ধ ইউরোপ
খোকনের ওই আচরণ সঠিক ছিলো না: আইনমন্ত্রী
আমাকে ভেঙে ফেলা এতো সহজ নয়: বাঁধন
আমিরাতকে হারিয়ে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ
ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানের যোগদানের কোনও তথ্য নেই: ভারত
স্ত্রীকে মেয়ে-ভাতিজি সাজিয়ে বিয়ে, দম্পতি গ্রেফতার
আওয়ামী লীগ ‘ক্লোজড চ্যাপ্টার’: সারজিস আলম