গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন দায়িত্বে নিয়াজ আহমদ খান
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান এবার যুক্ত হলেন নবগঠিত গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে। দেশের অন্যতম অভিজ্ঞ এ শিক্ষাবিদকে প্রতিষ্ঠানটির জ্যেষ্ঠ কৌশলগত পরামর্শক (সিনিয়র স্ট্র্যাটেজিক অ্যাডভাইজার) হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি ট্রাস্টের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক অনুমতি গ্রহণের পর অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান নতুন এ দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। উচ্চশিক্ষা, প্রশাসনিক দক্ষতা ও নীতিনির্ধারণী অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও একাডেমিক কাঠামো নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অস্থিরতার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে আসেন তিনি। প্রায় ১৮ মাস দায়িত্ব পালনের পর চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি স্বেচ্ছায় উপাচার্যের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। পদত্যাগের আড়াই মাসের মাথায় দেশের নতুন প্রজন্মের একটি বিকল্পধর্মী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হলেন তিনি।
গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ও গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ‘তিন শূন্য’ দর্শনের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। এ দর্শনের মূল প্রতিপাদ্য হলো—শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব এবং শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণ নিশ্চিত করা। বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা কাঠামো ও গবেষণা কার্যক্রমও এ সামাজিক ও পরিবেশগত লক্ষ্যকে কেন্দ্র করেই গড়ে তোলা হচ্ছে।
এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে পাঁচটি পৃথক স্কুলের অধীনে ১৪টি অগ্রাধিকারভিত্তিক শিক্ষা কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষসহ প্রশাসনিক ও একাডেমিক গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ কার্যক্রমও চলছে।
বিশ্ববিদ্যালয়টির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু প্রসঙ্গে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং পরবর্তী মাসে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে প্রতিষ্ঠানটি একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করে।
গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় একটি ট্রাস্টি বোর্ডের অধীনে পরিচালিত হবে বলেও জানানো হয়েছে। ট্রাস্টিরা জনকল্যাণমূলক উদ্দেশ্যে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং প্রতিষ্ঠান থেকে কোনও ধরনের বেতন, সম্মানী কিংবা বোর্ড সভার সিটিং অ্যালাউন্স গ্রহণ করবেন না বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























