ডাকসু নেতা মুসাদ্দিকের হুঁশিয়ারি
৫০ বছর পর হলেও হামলাকারীদের বিচার হবে
রাজধানীর শাহবাগ থানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নেতাদের ওপর হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এ মারধরের ঘটনায় জড়িত ছাত্রদলের প্রত্যেক কর্মীকে আজ হোক বা ৫০ বছর পরে হোক, বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, সময়ের পরিক্রমায় এ হামলার বিচার নিশ্চিত করা হবে। যারা সরাসরি মারধরে অংশ নিয়েছেন এবং যারা পেছন থেকে উস্কানি ও পরিকল্পনা করেছেন, তাদের কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ছাত্রদলের যারা আমাদের ওপর হামলা করেছে, তারা আমাদের মেরে ফেলতে পারেনি। কিন্তু যদি মেরেও ফেলতো, আমাদের আত্মা এবং পরবর্তী প্রজন্ম এ অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলে যেতো। আমাদের এ লড়াই অব্যাহত থাকবে।
বক্তব্যে তিনি অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও উপদেষ্টাদের ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, জুলাই বিপ্লবের শক্তির অংশীদার হয়েও অনেকে এ হামলার প্রতিবাদ করার নৈতিক সাহস দেখাননি। মুসাদ্দিক উল্লেখ করেন যে, অতীতে যখন বিভিন্ন জেলায় অন্যান্য দলের নেতাকর্মীরা হামলার শিকার হয়েছেন, তখন তারাই প্রথম প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। কিন্তু আজ তাদের ওপর হামলার পর অনেকে একটি ফেসবুক পোস্ট দেয়ার সাহসটুকুও পাননি। যারা এ হামলা নিয়ে উল্লাস করছেন, তাদের সে আনন্দ স্থায়ী হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং তার মেয়ে জায়মা রহমানের নামে কিছু আপত্তিকর পোস্টের স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ে। ডাকসুর শিবির প্যানেলের প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ দাবি করেন যে ওই স্ক্রিনশটগুলো ভুয়া এবং এগুলো অপপ্রচারের উদ্দেশ্যে ছড়ানো হচ্ছে। এ বিষয়ে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে যান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। তার সঙ্গে ডাকসু নেতা এ বি জুবায়ের ও মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ থানায় গেলে সেখানে তাদের ওপর মারধরের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে।
এ হামলার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ডাকসু নেতারা অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সবার দেশ/কেএম




























