তেহরানে তিন দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা
খামেনির দাফন ও শেষ বিদায়ের সূচি ঘোষণা
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বিদায়, জানাজা ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া উপলক্ষে রাজধানী তেহরানে টানা তিন দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
প্রায় ৩৬ বছর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ইসলামি বিপ্লবের এই প্রভাবশালী নেতা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলার প্রথম দিন নিহত হন। তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান চরম নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে তার রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া এর আগে কয়েক দফা পিছিয়ে দিতে বাধ্য হয় দেশটির সরকার।
শেষ বিদায় ও দাফন প্রক্রিয়ার সময়সূচি
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রয়াত এ নেতার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও দাফন প্রক্রিয়া কয়েকটি ধাপে এবং একাধিক শহরে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে:
- আগামী ৪ ও ৫ জুলাই তেহরানের ঐতিহ্যবাহী গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে লাশের প্রতি সাধারণ মানুষ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা নিবেদন এবং বিশেষ দোয়ার অনুষ্ঠান হবে।
- এরপর ৬ জুলাই রাজধানীতে সবচেয়ে বড় আনুষ্ঠানিক জানাজা ও শেষ বিদায়ের প্রধান আয়োজনটি সম্পন্ন করা হবে। এ রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবেই তেহরান প্রদেশে টানা তিন দিন সরকারি ছুটি কার্যকর থাকবে।
- পরবর্তী কার্যক্রম হিসেবে ৭ জুলাই ইরানের পবিত্র নগরী কুমে আরেকটি বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে।
- সবশেষে, আগামী ৯ জুলাই দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পবিত্র শহর মাশহাদে তাঁকে চূড়ান্তভাবে দাফন করা হবে।
রাজনৈতিক গুরুত্ব ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খামেনির এ অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া কেবল একটি ধর্মীয় বা রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা মাত্র নয়, বরং এটি ইরানের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমীকরণ এবং ক্ষমতার রূপান্তরের এক বড় প্রতীক। এ শেষ বিদায় অনুষ্ঠানগুলোকে কেন্দ্র করে ইরানজুড়ে সাধারণ মানুষের আবেগ কাজ করছে। প্রতিটি কর্মসূচিতে দেশজুড়ে লাখ লাখ মানুষের সমাগম হওয়ার তীব্র সম্ভাবনা রয়েছে। যেকোনও ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং সামগ্রিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পুরো ইরানজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ পর্যায়ে জোরদার করা হয়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























