আইনি জটিলতায় আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত নিলো মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ
রাষ্ট্রপতিকে শপথ পাঠ করাবেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার
দেশের ২৩তম নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পাঠ করাবেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এ বিষয়ে তৈরি হওয়া সাংবিধানিক ও আইনি জটিলতা নিরসনে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত নিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
আগামী শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে বর্তমান রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বাস্তবতায় নতুন রাষ্ট্রপতিকে কে শপথ পাঠ করাবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
এ পরিস্থিতিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে মতামত চায়।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়, বর্তমানে ডেপুটি স্পিকার ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন। এ অবস্থায় সংবিধান অনুযায়ী নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পাঠ করানোর ক্ষেত্রে তার সাংবিধানিক এখতিয়ার রয়েছে কি না এবং এ বিষয়ে করণীয় কী।
পরে আইন মন্ত্রণালয় তাদের মতামত দেয়। মন্ত্রণালয়ের মতে, নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের শপথ পাঠ করানোর ক্ষেত্রে কোনও সাংবিধানিক বাধা নেই।
সংবিধানের ৫৪ ও ৭৪(৩) অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা
আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতে বলা হয়েছে, বর্তমান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
এ অবস্থায় সংবিধানের ৭৪(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী স্পিকারের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের দায়িত্ব বর্তেছে ডেপুটি স্পিকারের ওপর।
আইন মন্ত্রণালয় মনে করছে, ডেপুটি স্পিকার যখন সংবিধান অনুযায়ী স্পিকারের সব দায়িত্ব পালন করছেন, তখন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পাঠ করানোর দায়িত্বও তিনি পালন করতে পারবেন।
মতামতে আরও বলা হয়, বর্তমান সাংবিধানিক পরিস্থিতিতে ডেপুটি স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালনকারী হিসেবে তিনি নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পাঠ করানোর জন্য সাংবিধানিকভাবে যথাযথ কর্তৃপক্ষ।
বঙ্গভবনে শপথের প্রস্তুতি
আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতের পর নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠান নিয়ে তৈরি হওয়া আইনি জটিলতা অনেকটাই দূর হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে।
আগামীকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিতব্য অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতিকে শপথ পাঠ করাবেন বলে জানা গেছে।
রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে দায়িত্ব গ্রহণের এ অনুষ্ঠানকে ঘিরে বঙ্গভবন ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি চলছে।
সবার দেশ/কেএম




























