Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০০:৩২, ২০ আগস্ট ২০২৬

জুলাই শহীদের বাবাকে চিকিৎসক

‘গুলিবিদ্ধ হওয়ার কথা কাউকে বলবেন না’

‘গুলিবিদ্ধ হওয়ার কথা কাউকে বলবেন না’
ছবি: সংগৃহীত

‘গুলিবিদ্ধ হওয়ার কথা কাউকে বলবেন না’—জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে গুলিতে নিহত তরুণ শাহরিয়ার হোসেনকে হাসপাতালে নেয়ার পর এমন কথা বলেছিলেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। শুধু তাই নয়, তাকে মৃত ঘোষণা করার পরও মৃত্যু সনদ দিতে অপারগতা প্রকাশ করা হয়। সাদা কাপড়ে লাশ ঢেকে নিয়ে যাওয়ার এবং পথে কাউকে গুলির ঘটনা না জানানোর পরামর্শও দেয়া হয়েছিলো বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাক্ষ্য দিয়েছেন নিহতের বাবা মো. মনির হোসেন।

বুধবার (১৯ আগস্ট) জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন মনির হোসেন। তিনি মোহাম্মদপুরের ক্ষুদ্র কাঁচামাল ব্যবসায়ী এবং নিহত শাহরিয়ার হোসেন ছিলেন তার বড় সন্তান।

ট্রাইব্যুনালে দেয়া সাক্ষ্যে মনির হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই শাহরিয়ার মোহাম্মদপুরে চলমান গণ-আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। ওই সময় আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা গুলি চালায়। এর কিছুক্ষণ পর তার দুই ভাগনে এসে শাহরিয়ার গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর দেন।

গুরুতর আহত অবস্থায় শাহরিয়ারকে প্রথমে স্থানীয় একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে নেয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।

হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক শাহরিয়ারকে মৃত ঘোষণা করেন বলে আদালতকে জানান তার বাবা। তবে সেখানেই ঘটে আরেকটি ঘটনা। চিকিৎসকেরা মৃত্যু সনদ দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। বরং লাশটি সাদা কাপড়ে ঢেকে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। পথিমধ্যে কাউকে তার গুলিবিদ্ধ হওয়ার কথা না বলতেও বলা হয়েছিলো বলে সাক্ষ্যে উল্লেখ করেন মনির হোসেন।

ছেলের মৃত্যুর জন্য আওয়ামী লীগকে সরাসরি দায়ী করেন মনির হোসেন। একই সঙ্গে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও দায়ী করেন তিনি।

আদালতে নিজের সন্তানের মৃত্যুর বর্ণনা দিতে গিয়ে মনির হোসেন সেদিনের পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরেন। আন্দোলনে অংশ নেয়া শাহরিয়ার গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাকে বাঁচানোর জন্য স্বজনদের ছোটাছুটি এবং হাসপাতালে নেয়ার পর মৃত্যুর খবর—সবকিছুই তার বক্তব্যে উঠে আসে।

ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর এলাকার এসব ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মোট ২৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বর্তমানে চারজন কারাগারে রয়েছেন।

গ্রেফতার চার আসামি হলেন সাবেক আনসার সদস্য মোহাম্মদ ওমর ফারুক, মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সাবেক সহসভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেন এবং যুবলীগ কর্মী কে এম ফজলে রাব্বী।

মামলার অপর ২৪ আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, পুলিশ সদর দফতরের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার এবং মোহাম্মদপুর অঞ্চলের সাবেক এডিসি রৌশানুল হক সৈকতসহ আরও অনেকে।

শাহরিয়ার হোসেনের বাবার এ সাক্ষ্য জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় মোহাম্মদপুরে সংঘটিত গুলিবর্ষণ ও মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য হিসেবে উঠে এসেছে। ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে মামলার পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

ফিটনেসবিহীন গাড়ির চালকের আসনে তারেক রহমান: হাসনাত
ড. ইউনূসকে হেনস্তা, ৪ আওয়ামী জঙ্গি শনাক্ত
এনসিপির শীর্ষ চার পদ বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত, বদলাচ্ছে নেতৃত্ব
ড. ইউনূসকে হেনস্তা, ১২ সাবেক উপদেষ্টার নিন্দা
মুচলেকা দিয়ে পুলিশি পাহারায় ক্যাম্পাস ছাড়লেন চুয়েট ভিসি
ড. ইউনূসের হেনস্তার দায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর: নাহিদ
যুক্তরাষ্ট্রে ড. ইউনূসকে হেনস্তা, সরকারের নিন্দা
ড. ইউনূস ভালো আছেন, কোনও ক্ষতি হয়নি: লামিয়া মোরশেদ
মোদিবিরোধী আন্দোলনে বাজলো হাসিনাবিরোধী প্রতিবাদী গান
পাখি আমদানির আড়ালে শত কোটি টাকা পাচার
ওয়ান ব্যাংকে অভিজ্ঞতা ছাড়াই নিয়োগ
বিএনপি’র সাবেক এমপি সালাহউদ্দিন আহমেদ আর নেই
ইরানে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করে ফেলেছি: ট্রাম্প
ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় জুলাই জার্নালিস্ট ইউনিটির নিন্দা ও প্রতিবাদ
টেস্টে লিটন দাসের বিশ্বরেকর্ড
চুয়েটে ২৪ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ উপাচার্যসহ ১১ জন
নিউইয়র্কে ইউনূসকে হেনস্তা, ব্যবস্থা নেবে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা