টঙ্গীর মাদক কারবার নিয়ে চাপে জিএমপির এসআই
ফাঁস হওয়া কলে মাসে ৫০ হাজা ‘মাসোহারা’ দাবি দারোগার
গাজীপুরের টঙ্গীর হাজী মাজার বস্তিকে কেন্দ্র করে মাদক কারবারিদের কাছ থেকে মাসোহারা নেয়ার অভিযোগে বিপাকে পড়েছেন অলিউল্লাহ। সোশ্যাল মিডিয়া ও টেলিভিশনে প্রচারিত একটি ফোনালাপের অডিওতে মাসে ৫০ হাজার টাকা দাবি করতে শোনা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
ফাঁস হওয়া ওই কথোপকথনে দেখা যায়, টঙ্গী হাজী মাজার বস্তির এক মাদক কারবারির সোর্সের সঙ্গে কথা বলছেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের দক্ষিণ জোনের এসআই অলিউল্লাহ। সেখানে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
৪০ হাজার টাকা দিয়ে গেলো, মাসে ৫০ হাজার ছাড়া হবে না।
অপরপ্রান্ত থেকে মাদক কারবারির পক্ষের ব্যক্তি মাসে ২০ হাজার টাকা দেয়ার প্রস্তাব দিলে এসআইকে উত্তেজিত হয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে শোনা যায়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সম্প্রতি ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচারিত একটি আন্ডারকভার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে টঙ্গীর হাজী মাজার বস্তির মাদক কারবার নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। সেখানেই সম্প্রচার করা হয় আলোচিত এ ফোনালাপ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, টঙ্গী মাজার বস্তির এক মাদক কারবারির কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা নেয়ার অভিযোগ রয়েছে এসআই অলিউল্লাহর বিরুদ্ধে। প্রথমে ৪০ হাজার টাকা নেয়ার পর আরও ১০ হাজার টাকা বাড়িয়ে মোট ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে ফোনালাপে উঠে আসে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত এসআই অলিউল্লাহ। তিনি বলেন, এ কথোপকথন আমার না। কেউ ষড়যন্ত্র করে এটি বানিয়েছে।
এদিকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন জিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। জিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপস) মো. বেলায়েত হোসেন জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কমিশনার নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি বর্তমানে ডিসি ডিবি তদন্ত করছে।
অন্যদিকে জিএমপির অপরাধ দক্ষিণ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) সাহেব আলী পাঠান বলেন, তদন্ত কার্যক্রম শেষ হয়েছে। আজই রিপোর্ট জমা দেয়া হবে।
প্রসঙ্গত, গাজীপুরের টঙ্গী দীর্ঘদিন ধরেই মাদক কারবারের জন্য আলোচিত। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকার অন্তত ১৯টি বস্তিতে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি ও সেবন চলে। সম্প্রতি জিএমপির বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানে দুই মাসে এক হাজারের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হলেও বড় মাদক কারবারিদের অধিকাংশই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযানের আগেই অনেক সময় তথ্য ফাঁস হয়ে যায়। ফলে মূল হোতারা নিরাপদে সরে পড়ার সুযোগ পেয়ে যায়। এর আগে টঙ্গী থানা ও জিএমপির ডিবির কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছিলো। কয়েকটি ঘটনায় বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছিলো।
নতুন করে ফাঁস হওয়া এ ফোনালাপ ঘিরে আবারও প্রশ্ন উঠেছে—মাদকবিরোধী অভিযানের আড়ালে কোনও অসাধু চক্র সক্রিয় রয়েছে কি না।
সবার দেশ/কেএম




























