মানবিকতা নিয়ে প্রশ্ন, তদন্তের দাবি জোরালো
পুকুরে কুমিরের মুখে কুকুর: ভাইরাল ভিডিও ঘিরে ক্ষোভ
বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খানজাহান আলী (রহ.) মাজারের দিঘিতে একটি কুকুরকে কুমিরের সামনে ফেলে দেয়ার অভিযোগে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি অসহায় কুকুর প্রাণ বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা করছে, আর চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজন কেউ তাকে উদ্ধার না করে মোবাইলে সে দৃশ্য ধারণ করছেন।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কুকুরটি বারবার পানির তীর ধরে ওপরে ওঠার চেষ্টা করছিলো, কিন্তু ব্যর্থ হচ্ছিলো। অভিযোগ উঠেছে, তার পা বাঁধা ছিলো, ফলে সে স্বাভাবিকভাবে সাঁতার কেটে বাঁচার সুযোগও পায়নি। একপর্যায়ে একটি কুমির ধীরে ধীরে কাছে এসে কুকুরটিকে টেনে নিয়ে যায়।
ঘটনাটি শুধু একটি প্রাণীর মৃত্যু নয়, বরং সমাজের মানবিকতার ভয়াবহ সংকটকেও সামনে এনেছে বলে মন্তব্য করছেন প্রাণী অধিকারকর্মীরা। তাদের প্রশ্ন—একটি প্রাণী যখন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছিলো, তখন উপস্থিত শত মানুষ কেন নীরব দর্শক হয়ে রইলো?
প্রাণী আচরণ বিশেষজ্ঞদের মতে, অসুস্থ বা আতঙ্কিত প্রাণীর আচরণ দেখে সহজেই বোঝা যায় সে সাহায্য চাইছে কি না। অনেকেই দাবি করেছেন, কুকুরটি হিংস্র ছিলো না; বরং ভিডিওতে তাকে আতঙ্কগ্রস্ত ও অসহায় অবস্থায় দেখা গেছে।
এ ঘটনায় আরও বিতর্ক তৈরি হয়েছে মাজার এলাকায় প্রচলিত কিছু রীতিনীতি নিয়ে। স্থানীয়ভাবে বহুদিন ধরে মানতের নামে কুমিরের সামনে মুরগি, ছাগলসহ বিভিন্ন প্রাণী ছুঁড়ে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি কুসংস্কারাচ্ছন্ন কিছু আচরণও সেখানে চলে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।

প্রাণী অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, বাংলাদেশ প্রাণী কল্যাণ আইন ২০১৯ অনুযায়ী কোনো প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ইচ্ছাকৃতভাবে প্রাণীকে নির্যাতন, হত্যা বা বিপদের মুখে ঠেলে দেয়া আইনের লঙ্ঘন। তাই এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের চিহ্নিত করে দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার দাবি উঠেছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় অসংখ্য মানুষ লিখেছেন,
আমরা কি শুধু ভিডিও করার মানুষ হয়ে গেছি, নাকি বাঁচানোর মানুষও হতে পারি?
অনেকেই বলছেন, এ একটি ঘটনা আমাদের প্রযুক্তিনির্ভর কিন্তু হৃদয়হীন সমাজের নির্মম চিত্র তুলে ধরেছে।
ঘটনার পর মাজার কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।
মানবিকতার প্রশ্নে এ ঘটনা এখন শুধু একটি ভাইরাল ভিডিও নয়—এটি সমাজের বিবেকের সামনে বড় এক আয়না হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























