ভাইরাল স্থিরচিত্র নিয়ে শিক্ষার্থীর ব্যাখ্যা
‘কাট ছবি’ দিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে: মোসাদ্দেক
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি স্থিরচিত্রকে কেন্দ্র করে সমালোচনার মুখে পড়া এক শিক্ষার্থী দাবি করেছেন, ঘটনাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেছেন, ভিডিও থেকে স্ক্রিনশট কেটে ও ক্রপ করে এমনভাবে প্রচার করা হয়েছে যাতে তাকে অসম্মানজনক অবস্থানে দেখানো যায়।
সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পোস্টে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন ওই শিক্ষার্থী। পোস্টের শুরুতেই ভাইরাল হওয়া ছবিটি দেখে যারা কষ্ট পেয়েছেন, তাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে জেনে-বুঝে ‘কাট ছবি’ ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্টদের নিন্দা জানান।
তিনি বলেন, কনফারেন্স রুমে উপস্থিত সবাইকে বসতে বলা হয়েছিলো এবং বিষয়টি এমন ছিলো না যে শিক্ষক বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা দাঁড়িয়ে ছিলেন আর শিক্ষার্থীরা ইচ্ছাকৃতভাবে বসে ছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক নিজেও বসা অবস্থায় ছিলেন এবং শিক্ষার্থীদের বসার অনুমতিও দিয়েছিলেন।
শিক্ষার্থীর দাবি, যে সময়ের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো হয়েছে, তখন প্রক্টর বারবার ভিসির কাছে যাচ্ছিলেন শিক্ষার্থীদের বার্তা পৌঁছে দিতে এবং সেখান থেকে আবার শিক্ষার্থীদের কাছে ফিরে আসছিলেন প্রশাসনের বক্তব্য নিয়ে। ওই সময় প্রক্টর দাঁড়িয়ে কথাবার্তা বলছিলেন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে। সে মুহূর্তের একটি ভিডিও থেকে স্ক্রিনশট নিয়ে সেটিকে ক্রপ ও সম্পাদনা করে শুধু তার অংশটুকু ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, কনফারেন্স রুমে উপস্থিত অন্য সবাইও বসা ছিলেন, কিন্তু পরিকল্পিতভাবে শুধু তার ছবিটিই আলাদা করে প্রচার করা হয়েছে।
ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, আলোচনায় সাংবাদিকদের উপস্থিতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রশাসনের মতবিরোধ তৈরি হয়েছিলো। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিলো, সেখানে কোনও সাংবাদিক থাকতে পারবেন না। তবে শিক্ষার্থীরা চেয়েছিলেন সাংবাদিকরা উপস্থিত থাকুক, যাতে আলোচনার বিষয়বস্তু সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে দেশবাসী জানতে পারে।
তিনি দাবি করেন, ভিসি সাংবাদিকদের সামনে আসতে অনিচ্ছুক ছিলেন এবং এ বিষয়গুলো নিয়েই প্রক্টরের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা ও দরকষাকষি চলছিলো।
ভাইরাল হওয়া ছবির প্রসঙ্গে শিক্ষার্থী আরও বলেন, আগের দিনের হামলার কারণে তার পুরো শরীরে ব্যথা ছিলো। ফলে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা তার জন্য কষ্টকর হয়ে উঠেছিলো। তারপরও প্রয়োজনীয় সময় তিনি দাঁড়িয়ে কথা বলার চেষ্টা করেছেন বলে উল্লেখ করেন।
পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রতি তিনি কতটা শ্রদ্ধাশীল, তা তার বিভাগের শিক্ষকদের কাছ থেকে জানা যাবে। নিজের অবস্থান ও আচরণের বিষয়ে তিনি নিজের কাছে ‘শতভাগ সৎ’ বলেও দাবি করেন।
একই সঙ্গে তিনি জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় কে কী বলছে বা কী ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তা নিয়ে তিনি বিচলিত নন। তবে যারা তার শুভাকাঙ্ক্ষী, তাদের উদ্দেশ্যেই এ ব্যাখ্যা দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।
সবার দেশ/কেএম




























